প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 28, 2026 ইং
নিম্ন মানের কিটনাশকে ২শ’বিঘা জমির ধান নষ্ট

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষকদের ২০০ বিঘা জমির ধান আমন ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলার নবাবগঞ্জে উপজেলার বড়মহেশপুর, শিমর, শিবরামপুর, কয়রাপুর, কালিয়া, তিখুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এই ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
জানা যায়- এসব এলাকার বিভিন্ন মাঠে সম্প্রতি কৃষকরা আমন ধান চাষাবাদ করেন। জমিতে আগাছা দমনের জন্য স্থানীয় ভাদুরিয়া বাজার থেকে মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্স নামক একটি কীটনাশকের দোকান থেকে আগাছা দমনের জন্য কীটনাশক ক্রয় করেন। এই কিটনাশক স্প্রে করার মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সবুজ ধানগাছগুলো প্রথমে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। পরে তা সম্পূর্ণ কুঁকড়ে পচে মারা যায়।একাধিকবার চারা রোপণ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পক্ষে বাবু মিয়া নামে এক কৃষক সমাধান চেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবসায়ী ও ডিলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী বড়মহেশপুর গ্রামের কৃষক বাবু মিয়া জানান, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিক্রি করা ভেজাল বা নিম্নমানের আগাছানাশক অথবা ডিলারদের ভুল পরামর্শের কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে। অনেক কৃষক এনজিও থেকে লোন নিয়ে এবং চড়া সুদে ঋণ করে জমিতে বীজ, সার ও সেচ দিয়ে আমন আবাদ করেছিলেন। ধানখেত এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন চরম খাদ্য ও আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তবে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন দেখে গেলেও কোনো সমাধান দেননি।
কীটনাশক বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কোম্পানির লোকের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন। তবে এখনো তার সমাধান করেননি বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জমির মাটি, পানি, চারা এবং আগাছানাশক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়