
পাবনা সংবাদদাতাঃ
ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ নামক পোকা চাষে ভাঘ্য বদলেছে শিমুল হোসেন নামে এক যুবকের। হাঁসের খামারে লোকশান গুনে শুন্য থেকে শুরু এখন তিনি ৫টি পোকার খামারের মালিক। যেখান থেকে মাসে আয় করছেন প্রায় ২ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্শসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। সফল এই চাষী পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পারসিধাই গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,এক সময় চাকরি করনে শিমুল। নিজ পায়ে দাঁড়ানোর স্বপএন তিনি শুরু করেন হাঁসের খামার। কিন্তু রোগে একের পর এক হাঁস মারা যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেনার বোঝায় থমকে যায় পথচলা। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। নতুন করে স্বপ্ন দেখেন আবারো ভাল কিছু করার। ইউটিউব দেখে তিনি শুরু করেন ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা কালো পোকা চাষ। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা আর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো। এখন তার রয়েছে পাঁচটি পোকা চাষের খামার। মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, তার উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মানুষেরও। এখন ৬ বছরে নিজের আয়ের টাকায় আরো ৫টি পোকার খামার গড়ে তুলেছেন। যেখান থেকে প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন প্রায় ২ লাখ টাকা। এসব খামারে এখন স্থানীয় ১৭ জন কর্মচারী কাজ করেন।
বর্তমানে পাঁচটি খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন করছেন শিমুল। উৎপাদিত লার্ভা সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা থাকায় উৎপাদনের পরপরই তা বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
উদ্যোক্তা শিমুল হোসেন বলেন, রুতে মানুষ হাসাহাসি করত। পরিবারের লোকজনও পছন্দ করত না। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু আমি কাজটা চালিয়ে গেছি। এখন পাঁচটি খামার হয়েছে। মাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো লাগে, আমার কারণে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস। প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করা গেলে এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
কৃ/স/জয়