প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 16, 2026 ইং
চরাঞ্চলে সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষক

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বিশাল চরাঞ্চল সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন শীত কালিন আহাম সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। মাঠে মাঠে তারা জমি প্রস্তুত সহ সবজি রোপন করছেন। কেউ পরিচর্যা করছেন। প্রতি বছর এই সবজি চাষাবাদে তারা ভাল টাকা আয় করে থাকেন।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাজীপুরে মোট ৪৫২ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ পর্যন্ত ৩৫২ হেক্টর জমিতে সফলভাবে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
কাজীপুর উপজেলায় যমুনা ও ইছামতি নদীতে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং সমতলের উর্বর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি (খরিপ-২) চাষে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নজুড়ে এখন আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষের ধুম পড়েছে। বাজারে মৌসুমের শুরুতে সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই চড়া থাকে; তাই অধিক মুনাফার আশায় চরের কঠোর পরিশ্রমী চাষিরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে যমুনা ও ইছামতি নদীর বিভিন্ন চর এবং প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ চরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই কর্মব্যস্ততা। চাষিদের কেউ নতুন সবজি চাষের জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ কচি চারা রোপণ করছেন, আবার কেউবা আগে লাগানো ছোট সবজি গাছের নিবিড় পরিচর্যা করছেন। মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে লালশাক, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়শ, পুঁইশাক, টমেটো, লাউ ও মিষ্টি কুমড়াসহ হরেক রকমের পুষ্টিকর সবজি। ইতোমধ্যে অনেক প্রান্তিক চাষি তাঁদের উৎপাদিত আগাম জাতের সবজি স্থানীয় বাজারে তুলতে শুরু করেছেন এবং বেশ ভালো দাম পেয়ে বিক্রেতারা মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলছেন।
উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের অভিজ্ঞ সবজি চাষি বাদশা মিয়া তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন,বর্তমান বাজারে সার, উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় কীটনাশকের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এর ওপর দিনমজুর বা কৃষি শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও চারা ক্রয়ের খরচও এখন আকাশচুম্বী। এত বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে চাষাবাদ করার পর আগের মতো কাঙ্ক্ষিত লাভ থাকে না। উৎপাদন খরচের এই লাগামহীন বৃদ্ধির কারণেই আমি এবার আগের মতো বিশাল এলাকা জুড়ে চাষ করতে সাহস পাইনি।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান,চলতি বছর কাজীপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও গতি খুবই সন্তোষজনক। চরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে লাভজনক ও আধুনিক ফসল চাষে দারুণভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পরামর্শ, সুষম সারের সঠিক ব্যবহার এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা যাতে আধুনিক ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফসল বাড়াতে পারেন, সেই লক্ষ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়