কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রংপুরে বায়োগ্যাসে লাভবান উদ্যোক্তারা

রংপুর সংবাদদাতাঃ 
রংপুর শহর ও বিভিন্ন উপজেলার খামারিরা বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি ও বাড়তি আয়ের পথ দেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ কাজে জড়িয়ে অনেকইে এখন বাড়তি আয় করছেন। পাশাপাশি নিজেরবাড়িতে গ্যাসের যোগান দিচ্ছেন। উদ্যোক্তারা বলছেন,এ খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়া গেলে দেশে জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি জৈব সার তৈরি করে অনেকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে। 

জানা যায়,রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিপাড়া এলাকার আশফাকুর রহমান নিপু। এ উদ্যোক্তা প্রায় ১০ বছর আগে ২১ শতক জমিতে গরুর খামার গড়ে তোলেন। এরপাশেই তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচে নিজস্ব অর্থায়নে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন।

বর্তমানে তার প্লান্ট থেকে দুটি খামারের গোখাদ্য সেদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ১৬টি বাড়িতে আবাসিক গ্যাসের সংযোগ দিয়েছেন। প্রতি বাড়ি থেকে মাসে ১ হাজার টাকা করে পান। গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট তরল বর্জ্য (স্লারি) ডিওয়াটারিং মেশিনের মাধ্যমে শুকিয়ে তিনি জৈব সার তৈরি করছেন। এখান থেকে মাসে ১৫০-২৫০ কেজি সার উৎপাদন হয়। যা প্রতি কেজি ৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।

তারাগঞ্জ উপজেলার হাজীপাড়া মেনা নগরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্যোক্তা মো. মুসা। বছর খানেক আগে তিনি তার মুরগির ফার্মেও পাশে ৮০ হাজার টাকা খরচে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন। এখানে দৈনিক উৎপাদিত মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে প্লান্টটি সচল রাখা হয়। লোডশেডিং মোকাবেলায় তিনি উৎপাদিত গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর করেন। এর মাধ্যমে টানা ৫ ঘণ্টা এবং বিরতি দিয়ে চালালে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পান। এতে তার খামারে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল সাশ্রয় হচ্ছে। 

রংপুর সিটির জুম্মাপাড়া মারুয়া পট্টি এলাকায় মো. তারিকুল ইসলাম একই ভাবে তার গরুর খামারের পাশে গড়ে তুলেছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট। এখান থেকে তিনি বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দিয়ে আয় করছেন। পাশাপাশি নিজের বাড়িতে গ্যাসের যোগান দিচ্ছেন। 

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ নাজমুল হুদা জানান, জেলায় বায়োগ্যাসের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদা মিটবে এবং জৈব সার ফলন বাড়াবে। বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহীদের জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাহিদার ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন রংপুরে

1

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বাড়ছে মালচিং চাষাবাদ

2

লাম্পি আক্রান্ত ২১ হাজার গরুঃমৃত্যু ৪০

3

কাজিপুরে শত কোটি টাকার কম্বল বেচাকেনা

4

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

5

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

6

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

7

কৃষিপণ্যই হবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য-কৃষিমন্ত্রী

8

খাল খনন না হওয়ায় ফেরত গেল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা

9

বান্দরবানে অবৈধ কাঠের বড় চালান জব্দ

10

মেঘনায় ধরা পড়ল ২৫ কেজির হিলা মাছ

11

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

12

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

13

রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের আবাদ

14

পাহাড়ে বারির কফি চাষে নতুন স্বপ্ন

15

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ

16

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

17

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

18

উজানের ঢলে ভেসে গেছে ফসল মাছের ঘের

19

নেত্রকোনায় মাল্টা চাষে সফলতা

20