কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হলুদ-সবুজ তরমুজ চাষে হাসানুরের সাফল্য

মাগুড়া সংবাদদাতাঃ 
মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে ‘ব্লাক বেরি’ ও ‘ইয়োলো মেলন’ নামে দুই জাতের তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছেন মো.হাসানুর রহমান নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। তার জমির মাচাজুড়ে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। যা মানুষের নজর কেড়েছে। তিনি আশা করছেন এ চাষাবাদ থেকে ভাল টাকা লাভের। সফল এ উদ্যোক্তা মাগুড়া জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা|

জানা যায়,এই উদ্যোক্তা সখের বসে তরমুজ চাষের জন্য মাগুরা জেলা শহর থেকে ২০ গ্রাম বীজ কিনতে তার খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। পরে সেই বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন তিনি। গত আগস্টে জমিতে চারা রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাস পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে।

তরমুজ চাষে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মাচাপদ্ধতি বেছে নিয়েছেন হাসানুর। বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের নেট দিয়ে তৈরি করেছেন মাচা। সেই মাচা বেয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তরমুজগাছের লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। সবুজ পাতার মধ্যে হলুদ ফলগুলো তৈরি করেছে আলাদা সৌন্দর্য।
বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই তার জমিতে আসছেন কৌতূহলী মানুষ। অনেকে ফলগুলোর ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ এ ধরনের তরমুজ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন।

মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে ‘ব্লাক বেরি’ ও ‘ইয়োলো মেলন’ নামে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এর মধ্যে হলুদ রঙের ইয়োলো মেলন মানুষের নজর কেড়েছে বেশি। প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে তার এমন উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের ফল ও সবজি চাষের উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে। স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনা করে এসব ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ, ফলন ও বাজার চাহিদার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে হাসানুর রহমান বলেন, নিতান্তই শখের বশে তরমুজ চাষ করেছি। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত তরমুজ চাষ করেন না। তবে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাসানুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি। তার সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।  অল্প জমিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে হাসানুর রহমান যে আগ্রহ তৈরি করেছেন, তা স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকরাও প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহিত হতে পারেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুমিল্লায় হাসপাতাল ঘরবাড়ীতে পানি

1

দুপচাঁচিয়ায় আধুনিক আদা চাষে নতুন পথ

2

চাঁই ফাঁদ ব্যবহারে মাছের বংশ ধ্বংস

3

ধানখেত থেকে অজগর উদ্ধার

4

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

5

হাঁস পালনে আতাউরের ভাগ্য বদল

6

সীড এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মাসুম, সম্পাদক সোপান মালিক

7

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম

8

সৌখিন মাছে রায়হানের রঙিন জীবন

9

পাট চাষে ফিরছে সুদিন

10

নার্সভুক্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘নার্সসাব’র সাথ

11

কাঁঠাল বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান প্রযুক্তি উদ্ভাবন

12

কাফকো সার কারখানা আবার বন্ধ

13

৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

14

পাহাড়ে মাল্টা চাষাবাদে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

15

সখের প্রাণী খামারে আবিদের বাগ্য বদল

16

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি

17

বকশীগঞ্জে ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

18

মাছ সংকটে শুঁটকি চাতাল ফাঁকা

19

হাটে হাটে নতুন পাটের দামে খুশি চাষিরা

20