কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সখের প্রাণী খামারে আবিদের বাগ্য বদল

বগুড়া সংবাদদাতাঃ 
এক জোড়া কোয়েল থেকে সখের খামার। সেখান থেকে বিশাল পোষা প্রাণীর খামার গড়ে লালন পালন করছেন এমু, বিরল প্রজাতির মুরগি, বিদেশি হাঁস, ফিজেন্ট, তিতির, খরগোশ, গিনিপিগসহ নানা প্রাণী। এসব প্রাণীর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করছেন সারা দেশে। যা থেকে আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা আবিদুল ইসলাম আবিদ। 

জানা যায়,এই উদ্যোক্তা ২০১৮ সালের দিকে সখের বসে দুটি কোয়েল কিনে পালন শুরু করেন। এর কিছুদিন পর টাকা জমিয়ে দুটি সিল্কি জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। যার ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করে খামার বড় করার পাশাপাশি বিক্রি করেন। সাফল্য পেয়ে তার খামারের প্রতি উৎসাহ বেড়ে যায়। এরপর শুরু হয় তার নতুন পথচলা। এখন তার খামারের রয়েছে-ইউরোপিয়ান সিল্কি, ব্রাহমা, কোচিন, বেনথাম, পলিশ ফ্রিজেল, তুর্কি সুলতান, মালয়েশিয়ান শো সেরেমা, মিসরীয় ফাওমি, সুমাত্রা, সেব্রাইটসহ অন্তত ২৮ প্রজাতির শৌখিন মুরগি। এখানেই শেষ নয়। কিং কোয়েল, কটর্নিকস কোয়েল, তিতির, জাপানের জাতীয় পাখি রিংনেক ফিজেন্ট, ম্যান্ডারিন ও উড ডাক, গিনিপিগ ও খরগোশ সহ আছে নানা রকম প্রাণী। যার ডিম থেকে এই উদ্যোক্তা বিভিন্ন পন্থায় বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করছেন সারা দেশে। 

অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবিদের খামারে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলীয় প্রজাতির এমু পাখি। তার খামারে এখন পাঁচটি পূর্ণবয়স্ক ও ১০টি বাচ্চা এমু আছে। গত দেড় বছরে এর ডিম থেকে ২৮টি বাচ্চা ফুটিয়েছেন আবিদ। এর মধ্যে ১১টি মারা গেলেও বিক্রি করেছেন ১৮টি। প্রতি জোড়া এমু বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। বাদ জায়নি ময়ূর পাখিও। 

এসব পোশা প্রাণীর বাচ্চা বিক্রি জন্য আবিদ তার ফেসবুক এবং ইউটিউবে সারা দেশ থেকে সৌখিন লোকদের কাছ থেকে অর্ডার পান। এরপর সেগুলো কুরিয়ারের পৌছে ধেয়া হয় গ্রাহকের ঠিকানায়। এভাবে সারা দেশে প্রায় ৯ হাজারের মতো বাচ্চা বিক্রি করেছেন এই উদ্যোক্তা। যা থেকে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে খন্ডকালীন কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। তারাও এখান থেকে আয় করছেন। 

আবিদ জানান,তিনি এ কাজের মাধ্যমে আনন্দ পান। এখন তার চিন্তা খামারটিকে আরো বড় করার। যার ম্যাধমে আরো বেশি মানুষকে এর সাথে যুক্ত করতে চান। 

গাবতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের ভাষ্য, অত্যন্ত যত্ন নিয়ে খামার চালাছেন আবিদ। নিয়মিত টিকা, চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তরুণদের জন্য তার উদ্যোগটি অনুকরণীয় উদাহরণ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এক জালেই ধরা পড়ল ৯৫ মণ ইলিশ

1

জমে উঠেছে পলো উৎসব

2

দিনাজপুরে উটপাখির বাণিজ্যিক খামার

3

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

4

৭ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা মামলা দায়ের

5

সাভারে নৌকা বিক্রির ধুম

6

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল দাবি

7

নতুন তিন দেশে এনআডি চালু করতে চায় ইসি

8

মধুপুরের বনভূমি পরিণত হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগানে

9

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

10

বিএনপির কাউন্সিল ডিসেম্বরে

11

২৫ জনে চলছে জেলার প্রাণিসম্পদ সেবা

12

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই : পরিবেশমন্ত

13

বিলুপ্তির পথে গরু-লাঙ্গলের চাষাবাদ

14

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

15

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ভ

16

পদ্মার ২ বাঘাড় বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকা

17

কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

18

বন্যায় ক্ষত বিক্ষত কৃষি,মৎস্য,প্রাণী খাত

19

৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

20