কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিএডিসির বেতনগ্রেড অবনমনে আজ থেকে আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বিভিন্ন পদের বেতনগ্রেড অবনমন ও নিয়োগযোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন হয়েছে। এ নিয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের জারি করা নতুন স্কেল ভেটিং আদেশে বিএডিসির ৩৮টি ক্যাটাগরির পদের বেতনগ্রেড ও নিয়োগযোগ্যতার শর্ত সংশোধনসহ মোট ৯১টি ক্যাটাগরির ৪ হাজার ৬৯৬টি পদের বেতনগ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এর ফলে বিভিন্ন পদে বিদ্যমান গ্রেড, পদমর্যাদা ও নিয়োগযোগ্যতার ক্ষেত্রে নতুন করে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। 

তাদের অভিযোগ, নতুন স্কেল ভেটিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পদমর্যাদা ও গ্রেড কাঠামোয় ‘অযৌক্তিক’ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বিএডিসির সাংগঠনিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সামনে বোরো মৌসুমে সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি জারি করা স্কেল ভেটিং আদেশেও বিভিন্ন অসামঞ্জস্য ছিল বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসব অসামঞ্জস্য সংশোধনের জন্য বিএডিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। বরং নতুন ভেটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে গ্রেড, পদমর্যাদা ও নিয়োগযোগ্যতার ক্ষেত্রে আরও অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট গ্রেডে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে যে গ্রেড ও পদমর্যাদায় তারা দায়িত্ব পালন করছেন, নতুন ভেটিংয়ের মাধ্যমে তা কমিয়ে দেয়া হলে আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি পদমর্যাদাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত বেতন ও পদমর্যাদা নতুন আদেশের মাধ্যমে কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রচলিত সরকারি বিধিবিধানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, বিএডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজস্ব আইন ও প্রবিধানমালার ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কেল ভেটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পদের নিয়োগযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণের বিষয়টি কতটা এখতিয়ারসঙ্গত এবং আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। 

তাদের দাবি, ১৯৭৮ সালের স্কেল ভেটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত কিছু উচ্চতর স্কেলও নতুন কাঠামোয় অবনমনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো কোনো ফিডার পদে পাঁচ অথবা ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক পদোন্নতির পথ জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। 

বিএডিসি দেশের বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, সার সরবরাহ এবং সেচ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশঙ্কা, বিএডিসির কার্যক্রম কোনোভাবে ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

স্কেল ভেটিংয়ের নেপথ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, অতীতে বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কোনো মহল বর্তমান প্রশাসনকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে ভেটিং প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

নতুন স্কেল ভেটিং বাতিল বা যৌক্তিকভাবে সংশোধনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএডিসির বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির দপ্তর সম্পাদকের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ আদেশ যৌক্তিকভাবে সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করা হবে। একই সঙ্গে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কৃষি ভবনের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

বার্তায় সংগঠনের সদস্যদের কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিষয়টির সন্তোষজনক সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। প্রয়োজনে বিএডিসির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার মতো কর্মসূচিও নেয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনাবাদি থাকার শঙ্কায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি

1

ইটভাটায় কোনভাবেই ইট পোড়ানো যাবে না-পরিবেশমন্ত্রী

2

কৃষি খাতে স্থবিরতা

3

বিশ্বে সম্পদ ও আয়ের বড় বৈষম্য কোথায়, বাংলাদেশে চিত্র কেমন1

4

পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাসা মওকুফ

5

সরু চাল উৎপাদনে ধস নেমেছে

6

রাজশাহীতে শব্দদূষণমাত্রা ভয়াবহ

7

রেজাউল ইসলাম সাইক্লিং ফেডারেশনের সহ সভাপতি

8

৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

9

এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

10

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

11

কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে

12

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় হাজার বিঘা ফসলি জমি

13

যশোরে বর্জ্য প্লান্টে মিলছে না সুফল

14

পানের বরজ যেন কৃষকের ‘নগদ ব্যাংক’

15

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

16

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

17

সুনামগঞ্জে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

18

চড়ুইয়ের বাড়ি মহম্মদপুর

19

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড

20