কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দেশি মাছ চাষ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রংপুরে চাষিরা

রংপুর সংবাদদাতাঃ 
রংপুরে মৎস্য চাষি ও মৎস্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের উদ্যোগে গত পাঁচ বছরে দেশি কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা ও মলা জাতীয় মাছের চাষ করছেন অনেক চাষী। এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত নানা কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। পাশাপাশি এসব মাছ চাষাবাদ করে চাষীরা যেমন লাভবান হচ্ছেন,তেমনি সাধারন মানুষের দেশি মাছের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। 

রংপুর মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের পাঁচ জেলায় গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন দেশি প্রজাতির মাছ উৎপাদিত হয়েছে। এসব মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার চাষি।

মৎস্য বিভাগের হিসাবে, প্রতি কেজি মাছের দাম গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ধরে ৬ হাজার মেট্রিক টন মাছের বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকার বেশি। ফলে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ চাষ করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন চাষিরা। ভাল টাকা ্য়া রোজগার হওয়ায় দ্রুত এখানকার বিভিন্ন জেলা উপজেলায় দেশি মাছ চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। 

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশি মাছের বংশ রক্ষা সহ উৎপাদন বাড়াতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৈ, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুরের উৎপাদন বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সরকারি উদ্যোগ।

রংপুর অঞ্চলে মাছের ঘাটতি থাকলেও দেশের রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাছের উদ্বৃত্ত উৎপাদন রয়েছে। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে এখনো প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের চাষকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে মৎস্য বিভাগ। তাই এর চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। 

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে পরিবেশের পরিবর্তন এবং জলাশয়ের ওপর বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশি অনেক মাছ হারিয়ে যেতে বসেছিল। দাড়ি, টিলা, কালাবাটা, ঘোড়া, পুঁটি, বোয়াল, চিতল, গজার, রিটা, বটশিং, ঘাউড়া, শালবাইম, কাচকি, ফলি ও শিলবাইলা-সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একসময় কমে গিয়েছিল। তবে উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিকল্পিত চাষের কারণে বিলুপ্তির পথে থাকা অনেক প্রজাতিই আবার পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ দেশি মাছের স্বাদ নিতে পারছেন। 

স্থানীয় মাছ বিক্রেতা সোনা চন্দ্র বলেন, কয়েক বছর আগেও বাজারে দেশি মাছ পাওয়া কঠিন ছিল। এখন নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশাপাশি বদ্ধ পুকুরেও এসব মাছের চাষ হচ্ছে। ফলে বাজারে দেশি মাছের সরবরাহও বেড়েছে। চাষীদের পাশাপাশি আমরাও মাছ বিক্রি করে আয় করতে পারছি। 

রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের মাছের ঘাটতি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশি কৈ, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুরের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে রংপুর অঞ্চলে মাছের ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছে মৎস্য বিভাগ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কংক্রিটের নগরে সবুজের কারিগর রকিবুল আমিনের গল্প

1

২০ বছর ধরে বন্ধ মৎস্য হ্যাচারি

2

চাঁদপুরে বিলুপ্ত বিরল মাছের অনন্য সংগ্রহশালা

3

বিভেদের জেরে ব্রি’র মহাপরিচালকের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব

4

পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি : সুলত

5

কৃষকের এক হাজার কলাগাছ কর্তন

6

কপোতাক্ষের পাড়ে ময়লার ভাগাড়

7

তরুনদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অব্যবহৃত জলাশয় বন্টন করা হবে-প্

8

দেশের তিন পাটকল আবার চালু হচ্ছে

9

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

10

পঞ্চগড়ে ৭০ বস্তা সার জব্দ

11

উপদেষ্টার ক্ষমতা প্রয়োগ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর!

12

চরাঞ্চলে ৫০০০ তালবীজ বিতরণ

13

ইউজিসিতে নতুন তিন সদস্য

14

৪২ হাজার রিল কারেন্ট জাল জব্দ

15

ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড শুঁটকি মহাল

16

বাজারে অসময়ের আমের জমজমাট কেনাবেচা

17

পেঁপে গাছ পঁচে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি

18

বিএসভিইআরের নতুন কার্যনির্বাহি কমিটি গঠন

19

পাহাড়ে বন উজাড় করে কচুরমুখী চাষ

20