কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সবজির গ্রাম মীরের বাড়ি

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ 
একটি গ্রামের মাঠের পর মাঠজুড়ে চাষাবাদ হচ্ছে নানা রকমের সবজি। বছরজুড়ে চাষীরা এই সবজি উৎপাদন করছেন। যা বিক্রি করে তারা আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। এর মাধ্যমেই তারা নিজেদেও সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। এই কৃষকদের উৎপাদিত সবজি চাহিদা মেটায় পুরো একটি উপজেলার অর্ধেক মানুষের।

 কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মীরের বাড়িগ্রামটি এ জন্য গ্রামটি সবার কাছে সবজি গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মীরের বাড়ির ৪০০ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আর উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৭৬০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৩ শতাংশ সবজি চাষ মীরের বাড়ির জমিতে হয়েছে। এ গ্রামের ৮শ মানুষের অধিকাংশই কৃষি কাজের সাথে জড়িতে। তারা সারা বছর বিভিন্ন মৌসুমি সবজি উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মেটাচ্ছেন।  পাশাপাশি তাদের সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এখানে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে মাঠে শুরু হয় কৃষকের ব্যস্ততা। কেউ ব্যস্ত জমিতে সবজির পরিচর্যা করতে, কেউ আগাছা পরিষ্কারে, আবার কেউ ব্যস্ত ফসল সংগ্রহে। এক জমিতে বেগুন, অন্য জমিতে করলা, লাউ কিংবা শিম। কোথাও আবার শীতকালীন বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা। বছরের প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই সবুজে ভরে থাকে এ গ্রামের মাঠ-ঘাট। তাই স্থানীয়দের কাছে মীরের বাড়ি পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘সবজির রাজ্য’ হিসেবে।

মীরের বাড়ি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ জুড়ে শাক-সবজির সমারোহ। কৃষকের শ্রম, পরিচর্যা ও মাটির গুণে বেড়ে উঠছে এসব ফসল। বাড়ির আঙিনা থেকে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি, সবখানেই যেন সবুজের ছোঁয়া।

মাটির গুণ ভালো হওয়ায় অনেক সময় কম সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং সবজির গুণগত মানও ভালো থাকে বলেও জানালেন কৃষকরা।

গ্রামের কৃষাণী জহুরা বেগম ও রহিমা বেগম জানিয়েছেন, তারা অন্যের ৩০ শতক জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ করেছেন। এবার ওই জমিতে বেগুন চাষ করেছেন তারা। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, বালাইনাশক, সেচ ও পরিচর্যাসহ সব মিলিয়ে তাদের খরচ হয়েছে ২৭ হাজার টাকা। জমিতে শ্রমিক হিসেবেও নিজেরাই কাজ করছেন। তারা আশা করছেন, ফলন ভালো হলে ৫৫ থেকে ৬০ মণ বেগুন পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি ৩০ টাকা হিসাবে ৫৫ মণ বেগুনের মূল্য প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এবং ৬০ মণের মূল্য প্রায় ৭২ হাজার টাকা হতে পারে।

স্থানীয় কৃষক মো. জাহেরুল ইসলাম জানান,এ বছর শীত মৌসুমের জন্য ৫০ শতক জমিতে বাঁধাকপি ও ৬০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন তিনি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ফসল ভালো হলে এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে প্রায় ২ লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

রাজারহাট উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী জানান, এ গ্রামের কৃষকরা বছরজুড়ে নানা ধরনের সবজি উৎপাদন করে। যা পুরো উপজেলার অর্ধেক চাহিদা মেটায়। পাশাপাশি এখানকার সবজি যাচ্ছে বিভিন্নস্থানে। যার মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’,

1

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

2

সীতাকুণ্ডে সাত টন ইলিশসহ ৪ বোট জব্দ

3

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

4

৯৮ প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণের উদ্যোগ

5

রাষ্ট্রপতির সাথে রুয়েট ও শেকৃবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

6

দুই ঘন্টার মাছ বাজারে লাখ টাকার বেচাকেনা

7

বৃষ্টির মতো উপর থেকে ফসলি জমিতে সেচ পদ্ধতি বিএডিসির

8

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

9

সাত বছরেও চালু হয়নি পোনা বিক্রয় কেন্দ্র

10

৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যহারের নির্দেশ

11

কৃষককে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযো

12

ন্যাড়া হচ্ছে গারো পাহাড়

13

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

14

‘নবীর ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেশ পরিচালনার সর্

15

দেশের ২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ,সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

16

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার

17

১৫৫ কেজির কোরাল মাছ দেখতে ভিড়

18

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

19

কৃষি প্রকল্পের এক পিডির বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

20