কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বেনাপোলে বাড়ছে মিষ্টি আখের চাষ

যশোর সংবাদদাতাঃ 
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী এলাকায় আখ চাষাবাদে শতাধিক কৃষক ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। এসব জমির আখ কেনাবেচা কে কেন্দ্র করে পথের ধারে জমে উঠছে অস্থায়ী বাজার। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সীমান্ত লাগোয়া এ অঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে মিষ্টি আখের আবাদ।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালী, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকাজুড়ে ধান, পাট, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের সুখ্যাতি রয়েছে। তবে অন্য ফসলে লাভ কম হওয়ায় কম খরচে অধিক লাভের আশায় এবার মিষ্টি আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে পুটখালী এলাকায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছে বেশ ভাল। এখানে চাষাবাদ হওয়া আখের মধ্যে ‘গান্ডারি’, ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’সহ বিভিন্ন জাতের আখ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার সুস্বাদু ও মিষ্টি আখ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বাজারে ভাল দাম থাকায় চাষীরা ভাল টাকা আয় করতে পারছেন। 

কৃষকেরা জানান, এক বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেখান থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক এখন আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত। আখের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন সবজিও চাষ করছেন তাঁরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে আখ। ভ্যানে মেশিন বসিয়ে আখের রস তৈরি করেও বিক্রি করছেন অনেকে। আবার দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সরাসরি বাগানে এসে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুটখালীর আখ মিষ্টি ও নরম হওয়ায় বাজারজুড়ে এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা এসে বাগান থেকেই আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক আরমান হোসেন জানান, আখ চাষে সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষকই নতুন করে উৎসাহিত হচ্ছেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি পুটখালীতে আখের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নাভারন থেকে আসা আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, বাজারে আখের চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় তিনি পুটখালী থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তিনি নন, সীমান্তসংলগ্ন এই গ্রামে প্রতিদিন আসছেন বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন,গান্ডারি, ঈশ্বরদী-১৬ ও লিপস্টিক জাতের আখের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকেরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। চলতি বছরে উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, আগামী বছর আখের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

1

কুমার নদ এখন বর্জ্যরে ভাগাড়

2

খাল খননে কৃষককের দুর্ভোগ অবসান

3

নেপালের পর্য টন নগরী পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফল বিক্রেতা প

4

বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

5

ঘেরের অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ

6

চুক্তিতে কৃষিসচিব থাকছেন ওয়াহিদা আক্তার

7

সর্জন পদ্ধতির চাষাবাদে লাভবান মুসলিম

8

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

9

পতিত জমিতে সবজি চাষে মতিনের সফলতা

10

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্

11

৩ হাজার মিটার জাল জব্দ

12

মৎস্য গবেষণার মহাপরিচালক হলেন লতিফুর রহমান

13

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

14

যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা

15

টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার বর্জ্যের দখলে

16

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন

17

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

18

মেহেরপুরে ৩ মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার

19

পানির দামে গোলাপ বিক্রি

20