কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

‘বাইকুনুর’ আঙুরে স্বপ্ন বুনছেন মুন্না

নাটোর সংবাদদাতাঃ 
নাটোরে রাশিয়ান বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষাবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে মিজানুর রহমান মুন্না নামে এক তরুন উদ্যোক্তা। তার দুই বিঘা জমিতে পড়ে তোলা বাগানে থোকায় থোকায় ধরেছে আঙুর। যা বিক্রি করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন। এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বলেছেন তিনি। সফল এই উদ্যোক্তার বাড়ী গুরুদাসপুর উপজেলার চরকাদহ গ্রামে। 

তরুণ এই উদ্যোক্তা ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা পাশ করে ব্যবসা শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিন ব্যবসায় বড় ধরনের লস দিয়ে মোটা অংকের টাকা দেনায় পড়ে যান। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। চিন্তা করেন কি করে ভাল কিছু করা যায়। যার মাধ্যমে তিনি নিজের ভাগ্য বদলানো যায়। এরপর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্যসংক্রান্ত তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ নেন তিনি। সেখান থেকেই কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ বাড়ে। ইউটিউবে বিভিন্ন ফলের বাগান ও সফল উদ্যোক্তার গল্প দেখে আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহী হন। পরে নওগাঁর মান্দায় গিয়ে একজন সফল আঙুরচাষির কাছ থেকে পরামর্শ নেন।

মুন্নার পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও বাড়ির পেছনের দুই বিঘা জমি আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন। আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নওগাঁ ও যশোর থেকে ৪০০টি ‘বাইকুনুর’ জাতের চারা সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, ছাঁটাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানের গাছে ফল আসতে শুরু করে। স্বপ্ন বাস্তেেব রুপ লাভ করে এউ উদ্যোক্তার।

এখন তার বাগানের সারি সারি গাছের লতার নিচে ঝুলছে আঙুরের থোকা। কোনো কোনো থোকা বেশ বড়, কিছু ফল সবুজ, আবার কিছুতে লালচে-বেগুনি আভা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। কেউ আঙুর চাষের পদ্ধতি জানতে চাইছেন, কেউ আবার চারা সংগ্রহ করছেন।

ইতোমধ্যে গাছ থেকে চারা উৎপাদন বিষয় রপ্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা। বাগানের গাছ থেকে কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করছেন। যা তিনি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। চারা বিক্রির পাশাপাশি আগ্রহী কৃষকদের জমি প্রস্তুতি, রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়েও পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন তার কাছ থেকে চারা নিয়ে ছোট পরিসরে আঙুর চাষ শুরু করেছেন।

মুন্নার এই আঙুর বাগান থেকে চলতি মৌসুমে চারা ও ফল বিক্রি মিলিয়ে সাত লাখ টাকার বেশি আয় করার স্বপ্ন দেখছেন। বাজার ভালো থাকলে প্রতি কেজি আঙুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রির আশা তার। 
আঙুর বাগানের উদ্যোক্তা মুন্না জানান,আমার ওপর ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ আছে। কিন্তু আমি কখনো আশা ছাড়িনি। এই বাগানটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় ভরসা। যদি ঠিকমতো ফল বাজারজাত করতে পারি, তাহলে সামনে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। তার মতে,চাকরি করতেই হবেÑএমন কোনো কথা নেই। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে কৃষিতেও সম্মানের সঙ্গে দাঁড়ানো যায়। আমি চাই এলাকার তরুণেরা শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাও কিছু শুরু করুক।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, গুরুদাসপুরে মুন্নার এ উদ্যোগ ইতিবাচক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড শুঁটকি মহাল

1

মাটিরাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ

2

কুমিরের কামড়ে বৃদ্ধ আহত

3

বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চেক

4

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

5

সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

6

দেশে ক্ষুদ্র কৃষকের বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম

7

মৎস্য-প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের তালিকা করা হবে-মৎস্য প্রাণিসম

8

বৈজ্ঞানিকভাবে মাছ চাষ খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

9

২৮৮ বস্তা সার জব্দ

10

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

11

পুরো গাছই এখন পাখির বাসা

12

রোপা আমনে বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষক

13

‘জলদাড়ি’র দুর্ভোগে হাজারও কৃষক

14

মিনি কোল্ডস্টোরেজ দেখে মুগ্ধ বিদেশিরা

15

বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে-- মৎস্য ও প্র

16

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

17

রংপুরে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নীল চাষাবাদ

18

১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

19

দেশে আগের চেয়ে বেশি সারের মজুদ আছে-কৃষিমন্ত্রী

20