কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মজুত করা পেঁয়াজ পচনে দিশেহারা কৃষক

পাবনা প্রতিনিধিঃ পেঁয়াজ উৎপাদনের রাজধানী হিসাবে খ্যাত পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মজুদ করা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে পাবনায় ৫৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ৩ ৩৫ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন, আর উৎপাদন হয়েছে নয় লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৭ টন।

কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় পাবনার সুজানগর, সদর ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের ঘরে মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। আতিকাল থেকে তারা এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলেও এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম। চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের কারণে পেঁয়াজে পচন ধরেছে। উপায় না পেয়ে কৃষকরা একেবারে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে কম দামে সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

অসময়ে একটু বেশি দামের আশায় কৃষকরা মাঠ থেকে তোলা পেঁয়াজ বিক্রি না করে ঘরের মাচায় সংরক্ষণ করেছিলেন। এখন সেই পেঁয়াজে পচন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই তাদের সংরক্ষণ করা নষ্ট পেঁয়াজ ফেলে দিতে হচ্ছে। এতে চাষাবাদের উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে চরম দৃশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

পাবনা সদর ও সুজানগরের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তারা মাচা থেকে বাড়ির উঠানে পেঁয়াজ বের করে রেখেছেন। নারী পুরুষরা সেখান থেকে পঁচা আর ভাল পেঁয়াজ আলাদা করছেন। এসব শ্রমিকদেরও বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ রং নষ্ট হওয়ায় বাজারে কাঙ্খিত দাম মিলছে না।

সুজানগরের হাটখালী গ্রামের কৃষক সেলিম মোর্শেদ রানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের বিশেষ সংরক্ষণাগারে প্রায় ৫শ’ মনের মতো পেঁয়াজ মজুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজই পচে গেছে।

পাবনার বিভিন্ন উপজেলার পেঁয়াজ চাষীরা জানান, এবার এ চাষাবাদে তাদের সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। বর্তমানে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তাতে উৎপাদন ব্যয়ই উঠছে না তাদের। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা।

পাবনা সদরের দুবলিয়া পেঁয়াজের পাইকারি হাট সহ স্থানীয় বিভিন্ন হাটে  প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের বাজারদর ছিল দুই হাজার ৫শ’ থেকে দুই হাজার ৬শ’ টাকা মণ।  

নাজিরগঞ্জের কৃষক হাসান আলী প্রায় ২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করে এক হাজার মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজ পচে এখন ৫শ’-৬শ’মণ হবে কি না সন্দেহ। এই উপজেলা সারা দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করলেও এখানে পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রাফিউল ইসলাম বলেন, জেলায় লক্ষাধিক পেঁয়াজচাষি রয়েছেন। কিন্তু উন্নত সংরক্ষণ পদ্ধতির আওতায় আনা গেছে মাত্র আড়াই হাজার কৃষককে। কৃষকদের আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির আওতায় আনা এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ধরনের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে সবজি চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকদের

1

মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ডক্টর জেড করিমকে সংবর্ধনা

2

লোহাগড়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগ

3

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

4

পৌরবর্জ্যে নষ্ট লেমুঝিড়ির ফসলি জমি জীববৈচিত্র্য

5

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির

6

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

7

সফল কৃষি উদ্যোক্তা ফেনীর রিপন চেয়ারম্যান

8

চার চারা থেকে প্যাশন ফলের বাগান

9

১০ গরু থেকে ৬৫ গরুর মালিক হারুন

10

বর্ষায় প্রাণিসম্পদের যেসব যত্ন ও সতর্কতা জরুরী

11

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

12

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

13

তিন বছরে পার্টনার প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ

14

নেত্রকোনায় মাল্টা চাষে সফলতা

15

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

16

শেরপুরে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব

17

৩০ অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি ধ্বংস

18

জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্স এলো ৬ বিলিয়ন ডলার

19

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

20