কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কাঠলিচু চাষে মনিরুজ্জামানের ব্যাপক সাফল্য

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ কাঠলিচু/লংগান চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে মাওলানা মনিরুজ্জামান রিফাত নামে এক প্রবাস ফেরত উদ্যোক্তা। তার এই ফলের বিশাল বাগানের শতাধিক গাছ থেকে চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন।  পাশাপাশি গাছের চারাও বিক্রি করেও আয় করবেন কয়েক লাখ টাকা। এই উদ্যোক্তার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্টাই গ্রামে।

জনা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সময় প্রথম এই ফলের সঙ্গে পরিচয় হয় উদ্যোক্তা রিফাতের। এরপর দেশে ফিরে ২০২২ সালে একটি নার্সারি থেকে ৫০টি চারা এনে গ্রামে নিজ পোল্ট্রি খামারের দুই একর জমির চারপাশে রোপন করেন। পরে তিনি পরিধি বাড়িয়ে আরও ৭৫টি চারা রোপন করে গড়ে তুলেছেন বিশাল কাঠলিচুর বাগান। এখানে রয়েছে দুই প্রজাতির শতাধিক গাছ। মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের পরিচর্যায় এখন প্রতিটি গাছ ফলন দিচ্ছে। এখানে ভিয়েতনামের দুটি জাত পিংকন ও পিংপং চাষ করা হয়েছে। দেশে নতুন ও উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।

কাঠলিচু এখন দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা কেজি। এ ফলের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম।

কৃষি বিভাগের মতে, উপযুক্ত পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে চাষ হলেও দিনাজপুরে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ফলন এসেছে।

উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান রিফাত জানান, ‘গত বছর প্রায় ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। এবার যে পরিমাণ ফল এসেছে, তাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। বাগান দেখে অনেক কৃষক ও পাশের জেলার উদ্যোক্তারা আগ্রহী হয়েছেন। অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা কিনেছেন। আকারভেদে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চারা বিক্রি করছি। আমার কাছে প্রায় ১ হাজার চারা আছে। এই চারা বিক্রি করে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা আয় করতে পারব। 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, ‘চিরিরবন্দরে এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কাঠলিচু বা লংগান বাগান। চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। লংগান, লিচু ও রাম্বুটান একই উদ্ভিদ পরিবারের। এখানে যে ভিয়েতনামি পিংপং জাতের লংগান চাষ করা হয়েছে, তাতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম। খুব কম কীটনাশক ব্যবহার করেই নিরাপদভাবে ফল উৎপাদন সম্ভব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পেঁপে গাছ পঁচে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি

1

জয়পুরহাটে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

2

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

3

২ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

4

ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

5

২৮ ভারতীয় গরু জব্দ

6

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষি খাতকে আরো উন্নত করতে হবে : শ

7

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

8

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হ

9

টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার বর্জ্যের দখলে

10

১৮ ফুট অজগর উদ্ধার করে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত

11

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও দূষণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের আহ্ব

12

মিষ্টি কুমড়োর হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট

13

হরিণের মাংস সহ আটক এক

14

দেশে সারের সংকট নেই,পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: কৃষি সচিব

15

দুধ থেকে চিজ তৈরি করে হবির সাফল্য

16

ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতায় মাঠে নামলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

17

বদলে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মসলার গ্রাম

18

শতকেজি আফ্রিকান মাগুর জব্দের পর ধ্বংস

19

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

20