কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জিয়া খাল খনন না হওয়ায় ব্যহত চাষাবাদ

নাটোর সংবাদদাতাঃ 
নাটোরের ১০ টি বিলের পানি নিষ্কাসনের একমাত্র মাধ্যম জিয়া খাল এখন দখল,দুষনে মৃত প্রায়। দীর্ঘদিন এটি খনন না করায় এর ভিতর ময়লা,আর্বজনার স্তুপ জমেছে। খালটির বিভিন্ন অংশে দুই দিক থেকে প্রভাবশালীরা ভরাট করে দখল করেছে। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে বিল এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌর সদরের আত্রাই নদীর চাঁচকৈড় মৎস্যজীবীপাড়া থেকে শুরু করে খোয়ারপাড়া হয়ে ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ গিয়ে শেষ হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে এই খালটির ২ কিলোমিটার খননকাজ শুরু করেন। পরে এটির নাম দেয়া হয় ‘জিয়া খাল’। এই খালটি ভিন্ন নাম নিয়ে পৃর্বদিকে কচুগাড়ি, তালবাড়িয়া, চাটমোহরের ছাইকোলা হয়ে সিরাজগঞ্জের হুসাগরে মিলিত হয়। এ ছাড়া পশ্চিমের চলনালী, পাঁচশিশা, দক্ষিণ নাড়িবাড়ি, সোনাবাজু হয়ে তুলশীগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

নাটোরে অন্তত ১০টি বিলের বুক চিরে প্রবাহিত জিয়া খালটি আত্রাইয়ে শুরু হয়ে হুসাগর নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। খনন পরবর্তী সময়ে খালের পানিতেই সেসব বিলের চাষাবাদ হতো। জেলেরা মাছ শিকার করতেন। কিন্তু পাঁচ দশকের ব্যবধানে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে খাল তার অস্তিত্ব হারিয়েছে।  

স্থানীয় কৃষক ও প্রবীণ বসতিরা জানান,এই খালটি খননের পর প্রবাহিত পানিতে গুরুদাসপুরের কান্টগাড়ি, ধারাবারিষা, চরকাদহ, চলনালী, সোনাবাজু, পাটপাড়া সিধুলী, পাবনার চাটমহোরের কয়েকটি এবং সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি বিলে চাষাবাদের জন্য পানির চাহিদা পূরণ হতো। তখন থেকে এই অঞ্চলে তিন ফসল চাষ শুরু হয়। চলতো ছোট বড় নৌকা। কিন্তু খালটি অব্যাহতভাবে দখল করায় বিলে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, খননের সময় খালটির প্রস্থ ৪৩ ফুট থেকে কোথাও ৩৫ ফুট ছিল। কিন্তু চাঁচকৈড় মৎস্যজীবী পাড়া থেকে শুরু করে চরকাদহ পর্যন্ত অংশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে খালটি প্রবাহ হারিয়ে সরু ড্রেনে রূপ নিয়েছে। মরা খালে এখন আর পানিপ্রবাহ নেই।

খালপাড়ের প্রবীণ কৃষক আজগর আলী জানান, নাটোর,পাবনার চাটমহোর এবং সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি বিলে চাষাবাদের জন্য পানির চাহিদা পূরণ হতো। তখন থেকে এই অঞ্চলে তিন ফসল চাষ শুরু হয়। চলতো ছোট বড় নৌকা। কিন্তু খালটি অব্যাহতভাবে দখল করায় বিলে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দ্রুত এটি খনন এবং দখলমুক্ত করা গেলে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমিতে চাষাবাদের আওতায় আসবে। 

গুরুদাসপুর বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন,বর্তমান সরকার দেশজুড়ে খাল খনন কাজ শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গুরুদাসপুরের জিয়া খালটি পুনঃখননের জন্য জিপিতে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই খালটি উদ্ধার করে খনন করা হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, খালটি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটি উদ্ধারে কাজ শুরু করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

1

সাতক্ষীরায় জিরার দাম কমেছে

2

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

3

রক্তদহ বিলের জলবদ্ধতা কৃষকের গলার কাঁটা

4

শাপলা ফুলে জীবিকা নির্বাহ

5

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

6

কাঁচা মরিচের দাম নেমেছে ১০০ টাকায়

7

খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান

8

দিনাজপুরে ৬৬৯ বস্তা সার জব্দ

9

কৃষকের ৪ শতাধিক ফলদ কলাগাছ কাটলেন প্রতিপক্ষরা

10

লংগান চাষে সাফল্য পেয়েছেন প্রিয়দর্শী চাকমা

11

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

12

বর্ষা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাজারে উত্তাপ

13

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

14

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

15

কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

16

মহেশপুরে রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড়ে ভোগান্তি

17

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

18

জলবায়ু পরিবর্তনে মহেশখালীর মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

19

দেশে সারের কোন ঘাটতি নেইঃ কৃষি মন্ত্রী

20