কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চিড়িয়াখানায় খাঁচা আছে প্রাণী নেই

রাজশাহী সংবাদদাতাঃ 
নামে চিড়িয়াখানা। কিন্তু সেখানে প্রাণি নেই। আছে প্রাণির শুন্য খাচা। এমনই অবস্থা এখন রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার। ফলে দর্শনার্থীদের চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে পশুপাখি দেখার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

 জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত রাজশাহী চিড়িয়াখানাটি চালু করা হয় । রাজশাহী সিটি করপোরেশন ১৯৯৬ সাল থেকে এটি পরিচালনা করছে । ২০২১ সাল থেকে প্রায় দুই বছর এটি বন্ধ রাখা হয় আধুনিকায়নের নামে। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন কাজ করা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে ভেতরের কয়েকশ পুরনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কয়েকটি পশুপাখির খাঁচা ভেঙে বিশাল জায়গাজুড়ে প্রবেশ পথের বাঁ পাশে করা হয়েছে নভোথিয়েটার ও গেস্ট হাউজ। এ নিয়ে সচেতন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

একসময় রাজশাহীর মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান স্থান ছিল এ চিড়িয়াখানা। শিশুদের কাছে বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণসহ নানা প্রাণী দেখার আকর্ষণ ছিল আলাদা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চিড়িয়াখানাটিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হলেও কমেছে প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য। বিশেষ করে বড় প্রাণী না থাকায় অনেক খাঁচাই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। এতে চিড়িয়াখানাটির মূল আকর্ষণই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।

অনেক দর্শনার্থীর মতে, বর্তমানে জায়গাটি দেখতে সুন্দর হলেও চিড়িয়াখানা হিসেবে এর আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। নাহিদ হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আগে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় এলে পশুপাখি দেখার জন্য এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় ঘুরতাম। তখন বাচ্চাদেরও অনেক আগ্রহ ছিল। এখন এসে দেখি কিছু প্রাণী আছে, কিন্তু বড় প্রাণী নেই বললেই চলে। ফলে বেশির ভাগ সময় আমরা হাঁটাহাঁটি করি, বসে থাকি, পরিবেশ দেখি। চিড়িয়াখানার বদলে জায়গাটিকে অনেকটা পার্কের মতো মনে হয়। অথচ পর্যাপ্ত পশুপাখি থাকলে এ জায়গাটি রাজশাহীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র হতে পারত।

চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা শিশু হাফিজুর রহমান বলেন, বাঘ ও সিংহ দেখার আগ্রহ নিয়েই সে পরিবারের সঙ্গে এখানে এসেছে। কিন্তু চিড়িয়াখানায় এসে বাঘ-সিংহ না পেয়ে তার মন খারাপ হয়েছে। সে বলে, ‘টেলিভিশন ও বইয়ে বাঘ-সিংহ দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে দেখার ইচ্ছা ছিল। এখানে এসে দেখি বাঘ-সিংহই নেই। হরিণ, বানরসহ কয়েকটি প্রাণী দেখেছি, কিন্তু বড় প্রাণীগুলো থাকলে চিড়িয়াখানায় ঘোরাটা আমাদের জন্য আরো বেশি আনন্দের হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই এ চিড়িয়াখানাকে দেখে আসছি। আগে এখানে পশুপাখি দেখার জন্য মানুষ পরিবার নিয়ে আসত। বাচ্চাদের কাছে এটি ছিল খুব আকর্ষণীয় একটি জায়গা। এখন জায়গাটির অবকাঠামো কিছুটা উন্নত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রাণী কমে যাওয়ায় সেই পুরনো চিত্র আর নেই। মানুষ এখন অনেকটা পার্ক হিসেবে ঘুরতে আসে। উন্নয়ন অবশ্যই দরকার, কিন্তু চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ যদি হারিয়ে যায়, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, ‘চিড়িয়াখানার জায়গা সীমিত। এটিকে সাফারি পার্কের মতো করে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই এখানে কী ধরনের প্রাণী রাখা সম্ভব, কত সংখ্যায় রাখা সম্ভব এবং প্রাণীগুলোর জন্য কী ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবেÑএসব বিষয় বিবেচনা করেই পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কিছুসংখ্যক প্রাণী আনা যায় কিনা সে বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রাণী এনে শুধু খাঁচায় রাখলেই হবে না; তাদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও পরিচর্যার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৯৮ প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণের উদ্যোগ

1

বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরিতে ইমরানের সাফল্য

2

যশোরের জাপানি পার্সিমনের সাফল্য

3

বন্যায় ডুবেছে ১.১৪ লাখ হেক্টর জমির ফসল

4

ডিলারশিপ বহাল ও কমিশন দ্বিগুণ করার দাবি বিএফএ’র

5

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

6

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

7

দেশীয় রানী মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

8

সবজির গ্রাম মীরের বাড়ি

9

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রী

10

সুপার হট মরিচে চাষে কামালের সাফল্য

11

কুমড়া বড়িতে ভাগ্য বদলাচ্ছেন নারীরা

12

নারকেল ছোবড়া থেকে আনসার সদস্যর কোকোপিট তৈরি

13

নেত্রকোনায় মাল্টা চাষে সফলতা

14

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি

15

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

16

চুয়াডাঙ্গায় প্যাকেট জালিয়াতির দায়ে এগ্রো ফার্মকে জরিমানা

17

ভারত থেকে আসা ১১.৫০০ টন চাল ফেরত যাচ্ছে

18

মধুপুরের আনারস যাবে পাকিস্তান

19

মাচায় ঝুলছে হলুদ-কালো তরমুজ

20