কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ধানের দাম না থাকায় চাষীরা হতাশ

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 
সুনামগঞ্জের চাষীরা এবার তাদের ঘওে মজুদ শুকনো ধানের দাম পাচ্ছেন না। ঝড়-বৃষ্টি,শ্রমিক সংকট,বাড়তি মজুরি,পরিবহন সহ নানা খরচের পর এখন ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ হাতে পাওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় তারা আগামীর চাষাবাদ সহ ধারÑদেনা মেটানোর চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকের কাছে ধান শুধু একটি ফসল নয়। এটা হাওর অঞ্চলের কৃষকের সারা বছরের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু গত মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া কৃষকের সেই স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এ অঞ্চলের কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এবার ধান কাটার সময় তাদের একজন শ্রমিককে মজুরি দিতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এরপর এর সাথে যোগ হয়েছে ধান মাড়াই, পরিবহন, শুকানো, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ। ফলে শুকনো ধানের প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে মণপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

অথচ বর্তমান এখানকার স্থানীয় বাজারে সেই ধান বেচতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। সারা দেশেও একইভাবে ধানের দাম যাচ্ছে। 

ধান কাটার মৌসুমে অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক না বেচে শুকিয়ে মজুদ করে রেখেছিলেন। তাদের আশা ছিল- কয়েক মাস পর বাজারে দাম বাড়বে। তখন বিক্রি করে কিছু বাড়তি যোগান আসবে। তিন্তিু তাদের সেই আশায় গুড়ে বালি। উল্টো মজুদ করা ধান এখন কৃষকের জন্য আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি ধান সংগ্রহমূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যদি কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ই মণপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়, তাহলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যেও কৃষকের প্রকৃত লাভ কতটা- সেটি আলাদা করে হিসাব করা জরুরি।

আর মাঠপর্যায়ে যদি কৃষক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় ধান বেচতে বাধ্য হন, তাহলে সরকারি ঘোষিত সংগ্রহমূল্যের সুবিধা তার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না- সেটি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

হাওরাঞ্চলে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকের হতাশা এবং ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়া বলেন, বালা গৃহস্থী করছি যে, ধান ফলাইতে এবং  শুকাইয়া ঘরে তুলতে করছ ১৪০০ টেহা। বেশি লাভের আশায় ডুলায় রাখছিলাম। আর এহন এই ধান বেচন লাগে ১০০০ টেহা।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আসায়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, সরকারি বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম কম। এতে কৃষকের কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ধানের রঙ ভাল না। অতি বৃষ্টির ফলে সময় মতো রোদ না পাওয়ায় এ রকম হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া কৃষকদের জন্য সরকার কৃষি কার্ড করে দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামি এক দুই সপ্তাহের মধ্যে ধানার দাম বাড়বে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বাড়ছে মালচিং চাষাবাদ

1

বরেন্দ্রে পানি সংকটে বাড়ছে ফসল উৎপাদন ব্যায়

2

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

3

মেঘনা চরের কৃষকদের স্বপ্ন এখন পানির নিচে

4

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

5

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

6

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

7

টেকনাফের সংরক্ষিত বনে ৪০ হেক্টরের নতুন বাগান, চারা রোপণ প্রত

8

সরু চাল উৎপাদনে ধস নেমেছে

9

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

10

২৫০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

11

আশরাফুলের এক শসা ৫ কেজি

12

৯ জেলায় ঝড়ের আভাস

13

‘নবীর ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেশ পরিচালনার সর্

14

মরক্কো থেকে ৮৬৯ কোটি টাকার সার আমদানির করবে সরকার

15

খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

16

আজ ৮ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

17

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

18

মাধবদীতে ২ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ

19

ইউএনওর কার্যালয় এখন পাখিদের আবাসস্থল

20