কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রোপা আমন আবাদ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 
সিরাজগঞ্জে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকরা মাঠে মাঠে ধান রোপন ও পরিচর্যাল কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবাদে সার,কিটনাশক,শ্রমিক সহ সবকিছুতেই বাড়তি খরচ হলেও কৃষকরা আশা করছেন ধান উৎপাদন করে লাভবান হবেন।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৫ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৪ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। রোপণকৃত জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় নানা জাতের ধান। এ চাষাবাদে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা বেশি পরিমাণ জমিতে চারা রোপণ করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ পোকামাকড় দমনসহ নানা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের গোজা, চরবেড়া, রাণীনগর, জগজীবনপুর, আলমের দহ ও আঙ্গারু মাঠে কৃষকেরা সারাদিন জমি তৈরি ও চারা লাগানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিতে পানি সেচ দেওয়ার বিনিময়ে ফসলের সিকি (চার ভাগের এক ভাগ) অথবা পাঁচ ভাগের এক ভাগ সেচযন্ত্রের মালিকদের দেওয়ার চুক্তিতে তাঁরা আবাদ করছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, পুরো ভাদ্র মাসজুড়েই রোপা আমনের চারা লাগানো যাবে। বন্যা না হওয়ায় এ বছর সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কিছুটা বেশি জমিতে আবাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাভাবিক বন্যা হলে যা পানিতে তলিয়ে যেত, সেসব মাঠে পানি না ওঠায় কৃষকেরা পুরোদমে রোপা আমনের আবাদ করছেন। 

সদর উপজেলার দিঘলকান্দি গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, এবার জমিতে ধানের চারা রোপণের আগে ও পরে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় সেচ বাবদ খরচ কিছুটা কম হয়েছে। বন্যা না থাকায় খাল-বিল অঞ্চলেও চাষাবাদ বেড়েছে। তবে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে খরচ কিছুটা বেড়েছে, সেই সঙ্গে ধানক্ষেত পরিচর্যায় শ্রমিকসংকট ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়েছে। 
সদর উপজেলার বহুলী গ্রামের কৃষক হাতেম আলী বলেন,এবার কাটারিভোগ ও ব্রি ধান-৩৯-এর নিজস্ব বীজতলা তৈরি করেছেন এবং সেই চারা তুলে জমিতে রোপণ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন,এ বছর চারার দাম কিছুটা চড়া । এক পণ চারা সাড়ে ৩০০ থেকে সাড় ৪০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে, যার মধ্যে কাটারিভোগ ধানের চারার দাম বেশি। 

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে পুরোদমে রোপা আমন চাষ চলছে। এবার চারা সংকট ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। এ চাষে জেলার প্রায় ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

1

ওল চাষে রূপকের ভাগ্য পাল্টেছে

2

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

3

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

4

পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে হাজার বিঘা জমি

5

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

6

বাকৃবি এগ্রি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের সভাপতি খালিদ,সম্পাদক শ

7

ভেজাল সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

8

দেশীয় শিল্পের বিকাশে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে: সুলতান সাল

9

৩৪ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন ইমাম

10

৪০৩ বস্তা সার জব্দ

11

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

12

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্

13

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

14

কচুরিপানায় আটকা ২৭ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ

15

লক্ষীপুরে নির্মাণ হবে বাফার গুদাম

16

আলু চাষিদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

17

বিষ প্রয়োগে নদীর মাছ মারা অভিযোগ

18

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিএ

19

মাছ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দুই অভয়াশ্রম

20