কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ডেউয়া

টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : এককালের গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা ও বনজঙ্গলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী ফল ডেউয়া, যা অঞ্চলভেদে ডেউয়া,
বনকাঁঠাল নামে পরিচিত। এখন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা থেকে বিলুপ্তির পথে। নির্বিচারে গাছপালা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের অবহেলার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী দেশীয় ফল ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। যা পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একসময় গ্রীষ্মের উষ্ণ দিনে যার টক-মিষ্টি সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত, সেই ডেউয়া এখন কাজিপুরের বাজার থেকে প্রায় অনুপস্থিত এবং গ্রামের হাটেও এটি দুর্লভ মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এককালে কোনো রকম পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠত ডেউয়া গাছ। মানুষ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় হাটবাজারেও বিক্রি করত। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই ম্লান। গাছপালা উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে ডেউয়া গাছের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। হাতেগোনা কিছু গ্রামীণ এলাকায় এখনো ডেউয়া গাছ টিকে আছে। তবে তাদের সংখ্যাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

মেঘাই বাজারে ফল ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া জানান, আগের মতো ডেউয়া ফল পাওয়া যায় না। অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আবার অনেক গাছ বয়সের ভারে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্করা শৈশবের স্মৃতি মনে করে ডেউয়া কিনে থাকেন। আকারভেদে প্রতিটি ফল ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।

কাজিপুর উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রাসেল ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেউয়া ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। একটি মাঝারি আকারের ডেউয়া ফল থেকে প্রায় ৭৩ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতে সহায়িকা।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ডেউয়াসহ দেশীয় ফল আমাদের জীববৈচিত্র্য ও খাদ্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ফলের গাছ সংরক্ষণ এবং নতুন করে রোপণের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কৃষি বিভাগও দেশীয় ফলের গাছ রোপণে মানুষকে উৎসাহিত করছে।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশীয় ফলের গাছের বিকল্প নেই। ডেউয়াসহ হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের গাছ বেশি করে রোপণ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি নিজ নিজ আঙিনায় দেশীয় ফলের গাছ লাগান, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের এই সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে ফিরে পাবে। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সব করা হবে-পরিবেশ, বন ও

1

সুনামগঞ্জে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

2

বরিশালে মৎস্য কেন্দ্র তিন দশক ধরে অচল

3

কৃষিসহ উৎপাদনশীল খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল চুক্তি

4

মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত

5

‘জলদাড়ি’র দুর্ভোগে হাজারও কৃষক

6

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

7

ভোলার চরাঞ্চলে মহিষের বাথানে চুড়ির হিরিক

8

দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

9

পরিবেশবান্ধব খাতা কলম তৈরি করছে প্রতিবন্ধী শরিফুল

10

নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

11

শখ থেকে লাখ টাকার ব্যবসা মুনের

12

আনারসের পাশে চাষ হচ্ছে কাজুবাদাম

13

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

14

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

15

চট্রগ্রামে ডুবে গেছে ১০ হাজার মৎস্যঘের

16

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে জানুয়ারিতে সচেতনামূলক কর্মসূ

17

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকা

18

১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধ ৮শ’ বিঘা জমি

19

বিলুপ্তির পথে সাদা বক

20