কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

৮ কোটির চিংড়ি ল্যাব অকার্যকর

সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ 
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সাতক্ষীরায় চিংড়ি মাছের রেণুর মান ও ভাইরাস পলীক্ষার ল্যাব চালু করা জায়নি। এতে ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ল্যাবটির যন্ত্রপাতি চাষীদের কোন কাজেই আসছে না। 

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার ঘেরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়, যেখানে প্রতি মৌসুমে ৩০০ কোটিরও বেশি চিংড়ি রেণু ছাড়া হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত সাদা সোনা বা বাগদা চিংড়ির প্রধান হাব হিসাবে সাতক্ষীরা কে বিবেচনা করা হয়।

জানা যায়, এখানকার চাষীদের দাবীতে গত বছর এল্লারচর এলাকায়‘চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারে’ প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি অত্যাধুনিক রেণু পরীক্ষা ও পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ঘেরে ছাড়ার আগেই যেন চাষিরা পোনার গুণগত মান ও রোগ-জীবাণু পরীক্ষা করে নিতে পারেন। কিন্তু স্থাপনের পর থেকেই প্রয়োজনীয় জনবল ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার স্পর্শকাতর বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল এখন ধূলিবালি জমে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থাপিত ল্যাবটি চালু না থাকায় চাষিরা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খালি চোখে দেখে বাজার থেকে পোনা কিনে ঘেরে ছাড়ছেন তারা। এতে ভাইরাসবাহী বা দুর্বল পোনা ঘেরে চলে যাওয়ায় কিছুটা বড় হওয়ার পরপরই মড়ক দেখা দিচ্ছে এবং মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ঘের। টানা লোকসানের ধাক্কায় অনেক চাষি ইতোমধ্যে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের সঙ্গে ভাইরাসের এ তাণ্ডব যোগ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য অর্থনীতি এখন চরম হুমকির মুখে। এতে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলেন, একের পর এক চালানে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই এখন ভিটেমাটি বিক্রি করার উপক্রম। বাধ্য হয়ে অনেকে চিংড়ি ঘের বন্ধ করে সাধারণ সাদা মাছ বা ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

সাতক্ষীরা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন করে দেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে রেণুর ভাইরাস পরীক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে ল্যাব দুটি চালু না করলে একদিকে চাষিরা সর্বস্বান্ত হবেন, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে পড়বে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন যুদ্ধে হার না মানা কৃষক সিরাজ শেখের সফলতার গল্প

1

বগুড়ায় যানবাহন থেকে খোলা হলো হাইড্রোলিক হর্ন

2

রাবির বৃত্তি তহবিলে ভূমিমন্ত্রীর ১০ লাখ টাকার অনুদান

3

রঙিন মাছ চাষে পাল্টে গেল রাহাতের জীবন

4

সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

5

বকশীগঞ্জে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ

6

বিষাক্ত ট্যাবলেটে মারা হচ্ছে নদীর মাছ

7

মেহেরপুরের কৃষকরা আমন-সবজি আবাদে ব্যস্ত

8

শাপলা ফুলে জীবিকা নির্বাহ

9

নলডাঙ্গায় আমনে রোপণে ব্যস্ত কৃষক

10

অস্থায়ী রিং বাঁধে ৩৮ বছর ধরে কৃষকের ক্ষতি

11

সান্তাহারে পুকুর চাষকৃত তিন মণ পিরানহা জব্দ

12

লাউ চাষাবাদে কলেজছাত্র শান্তের সাফল্য

13

কাজিপুরে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ

14

ত্রিশালে জমজমাট পলো উৎসব

15

আলুর পর করলাতেও লোকসান

16

নওগাঁয় আড়তে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

17

কচুয়ায় কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান

18

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব : অর্থমন্ত্রী

19

সার ছোলা ও রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার

20