নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে ওঠা এ দুষণ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে। এতে নীরব এলাকায় শব্দের মানমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া যেকোনো জনপরিসরে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি মিললেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবল এবং স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না, যা রাত ১১টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। একই সাথে অনুমোদিত মানমাত্রা অতিক্রম করে এমন কোনো হর্ন প্রস্তুত, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, প্রদর্শন, পরিবহন ও ব্যবহার করা যাবে না। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, বিধিমালা নির্দেশিত সীমার বাইরে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী কোনো যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাধারণ আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের ভেতরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কোনো প্রকার নির্মাণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন ও উচ্চ শব্দযুক্ত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি পটকা ও আতশবাজির ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগ সহজতর করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক সার্জন বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার যেকোনো কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে উক্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাবলী পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃ/স/জয়