কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নারকেলের ছোবড়ায় ভাগ্য বদল

লক্ষীপুর সংবাদদাতাঃ 
লক্ষীপুরে নারকেলের ছোবড়া থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা তৈরি করছেন নানা বাহারী শিল্প পণ্য। জেলার ৩০টি কারখানায় এখন এসব পণ্য তেরি হচ্ছে। যার মাধ্যমে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার বানিজ্য হচ্ছে। যা জেলার অর্থনীতিকে গতিশীল ও শক্তিশালী করেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, লক্ষ্মীপুর জেলায় ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় রয়েছে নারকেলগাছ। গত এক বছরে শুকনা নারকেল ও ডাব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এই জেলায় ২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭ হাজার ১২০ মেট্রিকটন নারকেল উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮১ কোটি টাকা।

নারকেল ছোবড়া এক সময় ফেলে দেযা হতো। সেই ছোবড়া কাজে লাগিয়ে লক্ষীপুরের উদ্যোক্তারা আঁশ ও গুঁড়া তৈরি করছেন। নারকেলের আঁশ (ফাইবার) থেকে জাজিম, গদি, দড়ি, স্লিপার (জুতা), খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। ফাইবার তৈরির সময় প্রচুর গুঁড়াও উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হয়। এসব গুঁড়া বা কোকোডাস্ট কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেসব বাগানে মাটির অভাব রয়েছে, সেখানে এসব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়। 

লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, সদর উপজেলার দালাল বাজার, মান্দারী, চন্দ্রগঞ্জ, রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া, মীরগঞ্জ, সোনাপুর, কমলনগর উপজেলা হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার ও জমিদারহাটে ৩০টি মতো ছোবড়া প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে। যেখানে অনেক নারী পুরুষ শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। 

সদর উপজেলার দয়াল বাজারে একটি কারখানায় দেখা যায়, মেশিনের সাহায্য ছোবড়া কাটার যন্ত্রে ছোবড়া কেটে ছোট ছোট খণ্ড করা হচ্ছে। সেই খণ্ড হাত দিয়ে ছিঁড়ে আঁশ পৃথক করছেন কয়েকজন নারী ও পুরুষ। এই আঁশ রোদে শুকানো হচ্ছে। পরে শুকনা আঁশ পরিমাপ করে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে বেঁধে তৈরি করা হচ্ছে গাঁট। গাঁটকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘বেল’ (২০ কেজিতে ১ বেল)। ছোবড়া থেকে আঁশ ছাড়ানোর সময় বের হওয়া গুঁড়া বস্তায় ভরে একপাশে স্তূপ করা হচ্ছে। এই ছোবড়া ও গুঁড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

কয়েকজন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জানান,বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল সংগ্রহ করার পর তা ছুলে ছোবড়া ফাটানো হয় কারখানায়। প্রতিটি কারখানা থেকে মাসে ৩ লাখ টাকার ছোবড়া বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কারখানায় নিয়োজিত আছেন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক।

ইারকেল ছোবড়া  কারখানার মালিক গাজী হাসমত জানান, একটি নারকেলের ছোবড়া কেনা হয় ২ থেকে ৩ টাকায়। ছোবড়া থেকে পাওয়া ছয় থেকে সাত ট্রাক আঁশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় আমার কারখানা থেকে। প্রতি ট্রাক আঁশের দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। ভালো দামে বিক্রি হয় ছোবড়ার গুঁড়াও। 

জেলা বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক মো. ফজলুল করিম কালবেলা বলেন, ‘লক্ষীপুরে নারকেল, সুপারি ও সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত। তবে নারকেলের ছোবড়াও সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন উদ্যোক্তা জড়িত আছেন। উদ্যোক্তারা বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ শিল্প নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবেন। বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা সহ সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

1

নদীতে ইলিশের অভাবে দেনার দায়ে জেলে

2

এবার শাকসবজিতে মিলেছে ক্ষতিকর জিবাণু

3

খামারবাড়ির প্রভাবশালী বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের নেতারা এখন

4

শিয়াল হত্যায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

5

২৮৮ বস্তা সার জব্দ

6

ছাদ বাগানে শারমিনের আয় ১২ লাখ টাকা

7

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হার্ড লাইনে পরিবেশ অধিদপ্তর

8

কৃষক পর্যায়ে ৭ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না ব্যাংক

9

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা

10

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর : কী মধু প্রশাসন শাখায়?

11

বর্ষায় প্রাণিসম্পদের যেসব যত্ন ও সতর্কতা জরুরী

12

সাতক্ষীরায় বিলে জলাবদ্ধতায় বিপাকে কৃষকরা

13

আসিয়ানের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক উচ্চতায় নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

14

১১ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন

15

১০ গরু থেকে ৬৫ গরুর মালিক হারুন

16

৭ মাস পর উৎপাদনে ফিরছে যমুনা সার কারখানা

17

২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু

18

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

19

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

20