কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রেণুপোনায় ভাগ্য বদলাচ্ছে তাদের

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ নানা ফসল চাষাবাদে যখন মার খাচ্ছিলেন। তখন ২ বিঘা পুকুরে দেশি পবদা মাছের রেণুপোনা চাষাবাদ করে নিজের ভাগ্য বদলেছেন আব্দুল মজিদ নামে এক চাষী। তার বাড়ী জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার রাণীপুকুর গ্রামে। এ চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি এখন বছরে আয় করছেন তিন চার লাখ টাকা। শুধু এই চাষীই নয়। তার দেখাদেখি উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই এ কাজে জড়িয়ে এখন নিজেদেও ভাগ্য বদলে সচ্ছল স্বভলম্বী। 

জানা যায়,দুই বছর আগে মজিদ বেসরকারি সংস্থা এহেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন (এসো)-এর মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দুই বিঘার পুকুরে দেশি পাবদা মাছের রেণু চাষ শুরু করেন। প্রথমবার মাত্র ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করার ২৪ দিন পর দুই লাখ পাবদা মাছের পোনা বিক্রি করেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। নিট লাভ হয় ৮০ হাজার টাকা। এভাবে বছরে পাঁচবার পাবদা রেণু চাষ করে চার লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।

মজিদের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে মাছের নার্সারি। বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রায় ২০০ একর জলাশয়ে চাষ হচ্ছে পাবদা, গুলশা, টেংরা, তেলাপিয়া, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের রেণু।

এই অঞ্চলের উৎপাদিত পোনা শুধু স্থানীয় পুকুরেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং মোবাইল ফোনেই এর বড় বাজার গড়ে উঠেছে। মাছ বিক্রির উপযোগী হলেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোর ও খুলনা থেকে পাইকারি ক্রেতারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পুকুর পাড়ে এসে নগদ টাকা দিয়ে পোনা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের মাছের রেণু সরবরাহ থেকে শুরু করে যাবতীয় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’।

সফল চাষি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘‘ধান আর আলু চাষ করে কোনো উন্নতি করতে পারিনি। কিন্তু ‘এসো’ আমার চোখ খুলে দিয়েছে। দুই বিঘা পুকুরে রেণু চাষ করে আমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। এবার ভাবছি আরও দুই বিঘা পুকুরে দেশি টেংরা মাছের রেণু চাষ করব। এখন প্রতিদিন এলাকার কৃষকরা আমার পুকুর দেখতে আসেন, তারাও চাষ শুরু করেছেন। এলাকায় আমিই প্রথম দেশি মাছের নার্সারি করেছি, যা দেখে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে–ভাবতেই খুব ভালো লাগে।’’

রেণুপোনা চাষে ব্যাপক লাভ হওয়ায় উপজেলার বেলগাড়ি গ্রামের পরিশ্রমী যুবক আব্দুল আলিমও তাঁর দেড় বিঘা পুকুরে তেলাপিয়া মাছের রেণু চাষ শুরু করেছেন। তিনি জানান, তেলাপিয়া মাছের রেণু পুকুরে ছাড়ার মাত্র তিন মাস পর প্রথম চালানেই প্রায় আড়াই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। পুকুরে এখনও যে মাছ আছে, সেগুলো বিক্রি করলে লাভ আরও বাড়বে। রেণু চাষে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও লাভ মাঠের ফসলের চেয়ে অনেক বেশি।

বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’-এর আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘মাত্র ৭০ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে আব্দুল মজিদ ২৪ দিনে ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছেন, যা বছরে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এই সফলতা দেখে এখন এলাকার প্রায় ২০০ একর জলাশয়ে দেশি মাছের রেণু চাষ হচ্ছে, যা আমরা নিয়মিত দেখাশোনা করছি।’

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, পুরো জেলায় দেশি মাছের চাষাবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরকারি মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার মৎস্য বিভাগও চাষিদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে এই ধারাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

1

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনই বড় চ্যালেঞ্জ -কৃষিমন্ত্রী

2

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

3

কাজিপুরে বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কুটির শিল্প কর

4

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

5

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

6

দিনাজপুরে এক হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার আম বিক্রি

7

বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরিতে ইমরানের সাফল্য

8

জিয়া খাল খনন না হওয়ায় ব্যহত চাষাবাদ

9

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

10

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ

11

লালপুর ডাব বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

12

কংক্রিটের নগরে সবুজের কারিগর রকিবুল আমিনের গল্প

13

ফরিদপুরে খামারিদের মাঝে মিল্কিং মেশিন বিতরণ

14

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

15

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

16

ইউএনওর কার্যালয় এখন পাখিদের আবাসস্থল

17

পাহাড়ের পাশে বর্জ্যর স্তুপ

18

বাগানে ঝুলছে ২০ জাতের আঙুর

19

পাচারকালে সার ও সিমেন্ট জব্দ

20