কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে পাট জাগ দেয়া নিয়ে বিপাকে চাষিরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে বর্ষা মৌসুমেও পানির সংকটে পাট জাগ দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। বাধ্য হয়ে যানবাহনে দুরবর্তী স্থানে নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। 
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটচাষ হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে নেমেছে।

ছোট-বড় ১৬ নদ-নদীবেষ্টিত এ জেরায় বর্ষা মৌসুমেও পানির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চাষীরা পাট জাগ দিতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক চাষিকে। এতে বাড়ছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। আবার সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি সংকটের কারণে প্রান্তিক কৃষকরাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন। পাট কাটার পর রিবন রেটিং মেশিনের মাধ্যমে আঁশ ছাড়ানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলেও অনেক কৃষক এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ ও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। দূরের জলাশয়ে পাট নিয়ে জাগ দিলে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। আবার অল্প পানিতে পাট স্তূপ করে রাখলেও আঁশের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পেয়ে কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পাট এভাবে পড়ে থাকায় আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছি। পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক আব্দুল মমিন ও বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দেওয়া যেত। এবার অনেক জায়গায় পানি নেই। যাদের খাল বা জলাশয় আছে, তারাও অন্যের পাট জাগ দিতে দিতে চান না। ফলে দূরের জায়গায় পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে কৃষকরা অনেক বেশি উপকৃত হতেন। সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাট কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হবে। পানির সংকট হলে আশপাশের কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে গভীর ও পরিষ্কার জলাশয় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে পাট জাগ দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকা

1

পাটের গৌরব ফিরিয়ে আনতে গবেষণা চলছে-পট প্রতিমন্ত্রী

2

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

3

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

4

মাটিরাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ

5

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

6

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

7

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

8

তিন বিঘা জমির কলা গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

9

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার বাড়াতে হবে রপ্তানি-মৎস্য ও প্

10

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

11

এলএনজি ও সার সরবরাহ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

12

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

13

কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

14

বিদেশি মুরগি পালনে স্কুল শিক্ষকের সাফল্য

15

জামালপুরে ১৬ বস্তা ঘোড়ার মাংস জব্দ

16

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

17

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের হাজারো পরিবারে আয় বাড়িয়েছে এফএও

18

পানির দামে গোলাপ বিক্রি

19

সাতক্ষীরায় পুকুরে একসাথে মাছ-সবজি চাষ

20