কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোণায় লাউয়ের বাম্পার ফলন

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনায় বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে লাউ চাষাবাদ হয়েছে। ভাল ফলন আর দামে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে,এ জেলায় ছরতি মৌসুমে প্রায় ৮৯ কোটি টাকার লাউ বিক্রির আশা করা হচ্ছে। 

জানা যায, নেত্রকোণা সদর, পূর্বধলা, কেন্দুয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া, দাপুনিয়া, বালি পাপিয়াজোড়, সিনছাপুর, বেড়াইন, মহেশহাটি, শালদিঘা, মোবারকপুর, সিন্দুরটিয়া, লাঙ্গলজোড়া, নারায়ণডহর, সিদকান্দি ও বাঘবের গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন লাউয়ের সবুজ মাচা চোখে পড়ে।

এ জেলায় চলতি মৌসুমে ৮৯৭ হেক্টর জমিতে লাউ আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত আর বন্যায় অন্য ফসলের ক্ষতি হলেও লাউ চাষাবাদে ভাল লাভের আশা চাষীদের।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি ১০ শতক জমিতে গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০টি লাউ উৎপাদিত হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মাত্র ১০ শতক জমি থেকেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, আগে একই জমিতে ধান চাষ করে অল্প লাভ হতো। এখন লাউ চাষে কয়েক গুণ বেশি আয় হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলার উৎপাদিত লাউ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার শুনুরা গ্রামের কৃষক খন্দকার পলাশ, বরুনা গ্রামের খোকন এবং শালদিঘা গ্রামের আকবর আলী বলেন, একসময় বন্যার পর অনেক পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে। কাজের জন্য অন্য জেলায় যেতে হতো। এখন লাউ /সবজি চাষই আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারছি, ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছি, অনেক পরিবার বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৮৯৭ হেক্টর জমিতে লাউ আবাদ হয়েছে। বর্তমান পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকার লাউ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে এ চাষাবাদ থেকে প্রায় ৮৮ কোটি ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয় হবে কৃষকদের । ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য লাউ চাষ এখন হয়ে উঠেছে লাভজনক বিকল্প।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মুখশেদুল হক বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিকল্প আয়ের জন্য সবজি ও রবিশস্য চাষে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির ফলে এবার লাউয়ের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষির বহুমুখীকরণে আমরা কাজ করে যাব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সোনামসজিদ দিয়ে এলো ১১৮ টন কাঁচা মরিচ

1

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

2

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

3

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

4

সমেশপুরের সবজির চারা যাচ্ছে ৩৪ জেলায়

5

চুয়াডাঙ্গায় আগাম জাতের বাঁধাকপিতে বিরল রোগ

6

ব্ল্যাক সুগারকেইন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

7

কাউনিয়ায় আখের ভাল ফলনে কৃষক খুশি

8

ঠাকুরগাঁওয়ে আখের মাঠে সবুজের স্বপ্ন

9

গলদা -বাগদা চিংড়ি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উৎপাদন বাড়াতে হবে

10

চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

11

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

12

‘বাইকুনুর’ আঙুরে স্বপ্ন বুনছেন মুন্না

13

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

14

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

15

সদুল্লাপুরে আমনের চারার বাড়তি দাম

16

খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে চাষীরা

17

নেপালের পর্য টন নগরী পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফল বিক্রেতা প

18

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

19

অপরিকল্পিত উন্নয়নে ছোট হচ্ছে চলনবিলঃ হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

20