কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পার্টনার প্রকল্পের গতি ফেরাতে মাসিক কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ নতুন পিডির

*তিন বছর তিন মাসে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, বরাদ্দ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
 
কৃষি সময় প্রতিবেদক
কৃষি খাতের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প পার্টনারের বাস্তবায়ন তিন বছর তিন মাসে মাত্র ২২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে মাসিক কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) ড. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শরীফ। একই সঙ্গে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সমস্যা নিরসন এবং মাঠপর্যায়ের সিনিয়র মনিটরিং অফিসারদের ডিডিও ক্ষমতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
 
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পার্টনার প্রকল্পের সমন্বয় সভায় এসব নির্দেশনা ও আশ্বাস দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের নবনিযুক্ত পিসি ড. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শরীফ।
 
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিনিয়র মনিটরিং অফিসারদের নিজ নিজ অঞ্চলের মাসিক কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এসব পরিকল্পনার আলোকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ও কৌশলগত সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানানো হয়। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে সিনিয়র মনিটরিং অফিসারদের ডিডিও ক্ষমতা প্রদানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
 
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার) প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
 
দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কৃষিকে বাণিজ্যিক, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষকদের আয় বাড়ানো প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া ফসলের বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল কৃষিসেবা সম্প্রসারণ, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
 
লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে কার্যক্রম:
 
প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার ৫৯৭টি কৃষক মাঠ স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টির কার্যক্রম চলছে। উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি) বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার ব্যাচের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৩০টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ২৭টি শেষ হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ১১২টি কর্মশালা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩১টি।
 
প্রকল্পের এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল কৃষিসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকি, ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য কৃষিসেবা সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তম কৃষিচর্চার সনদ প্রদান, নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কৃষি তথ্যসেবা সম্প্রসারণও প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
 
তবে মাঠপর্যায়ে কিছু প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও সামগ্রিক বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬৫ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২২ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে অবশিষ্ট সময়ে বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
 
নতুন নেতৃত্বে সমন্বয় ও তদারকিতে জোর :
 
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার চ্যালেঞ্জের মধ্যে গত ৬ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়। আবুল কালাম আজাদের স্থলে ড. মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির প্রথম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান, পরে তিনি দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি, জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
 
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সমন্বয় সভায় মাসিক কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটুকু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
 
এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডিডিও ক্ষমতা প্রদানের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে এ ক্ষমতা দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা বাড়তে পারে। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
 
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় এক বছর আট মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে থাকা কার্যক্রম চিহ্নিত করা, সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নের বিকল্প নেই। প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছাতে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাস্তবায়নের গতি কতটা বাড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাকৃবিতে ছয়টি হলে বৃক্ষরোপণ

1

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধা

2

দেশের জমি চাষ করছে ভারতের লোকজন

3

আনসার ভিডিপির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

4

ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতায় মাঠে নামলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

5

সাড়া ফেলেছে ভেষজ লেমন ঘাসের চা পাতা

6

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

7

বাগেরহাটে বাড়ছে চুইঝালের চাষ

8

পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

9

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

10

বিজেআরআই উদ্ভাবিত কৃষি, কারিগরি ও জুট-টেঙ্টাইল বিষয়ক কর্মশাল

11

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই : পরিবেশমন্ত

12

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

13

বিপন্ন রায়েন্দা খাল ঝুঁকিতে সুন্দরবন

14

জমজমাট মুলাডুলি মাছের আড়ত

15

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন হচ্ছে

16

৩ লাখ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি

17

পার্টনার প্রকল্পের গতি ফেরাতে মাসিক কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ ন

18

মেঘনায় ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ

19

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

20