কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চরে আগাম আমন ধান কাটার ধুম

রংপুর সংবাদদাতাঃ 
আগাম জাতের ধানকাটা শুরু হয়েছে রংপুরের কাউনিয়ার চরাঞ্চলে। নবান্নের আগাম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এই চরাঞ্চলে। ধানের ভাল ফলনে এবার কৃষককের মুখে হাসি ফুটেছে। 

কাউনিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন।

সরেজমিন উপজেলার ব-দ্বীপ নামে পরিচিত ঢ়ুসমারা চরে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ পাকা আমন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমিতে চলছে চারটি হারভেস্টার মেশিন। শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির এই যন্ত্রের প্রতি ঝুঁকছেন কৃষকেরা। হারভেস্টার মেশিনে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। এতে কমছে কৃষকের শ্রমনির্ভরতা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি।
ঢ়ুসমারা চরের জমির মালিক শহিদুল ইসলাম ভুট্টু জানান, তিনি তার সব জমি বর্গা দিয়েছেন। এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তবে উৎপাদন ভালো হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তিনি কিছুটা হতাশায় রয়েছেন।

তাজুল ইসলাম নামে আরেক বলেন, সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনে খরচ আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে। তবে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি আরও বলেন, আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে শীতকালীন ফসল চাষ করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ধান কাটার পর জমিতে মরিচ চাষ শুরু করেছেন। কেউ কেউ আগাম ভুট্টা চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এতে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ঢ়ুসমারা চরের কৃষক কোব্বাত আলী জানান, অক্টোবরের শুরু থেকেই আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে, যা চলবে পুরো মাসজুড়ে। মূল মৌসুমের আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে।

তিনি বলেন, এ বছর বড় দুই দফা বন্যায় ভেবেছিলাম ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবং মারাত্মক রোগবালাই না থাকায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এক দোন (২৫ শতক) জমিতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ মণ ধান পেয়েছি।

উপজেলা কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি এবং চরাঞ্চলে দুই দফা বন্যা হলেও বর্তমানে ধানের ক্ষেতের অবস্থা ভালো। আগাম জাতের আমনের উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর কৃষকেরা জমিতে ভুট্টা, আলু, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শাকসবজি ও শীতকালীন ফসল চাষ করেন। এতে কৃষকেরা একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ পান। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগ সব সময় পাশে রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

1

৯৮ প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণের উদ্যোগ

2

আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত

3

দেশে সারের সংকট নেই,পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: কৃষি সচিব

4

১০ লাখ পরিবারের জরুরি কৃষি সহায়তা প্রয়োজন: এফএও

5

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

6

মানিকগঞ্জে মাটির উর্বরা শক্তি কমছে

7

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

8

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

9

কুড়িগ্রামে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে

10

পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত

11

বালু উত্তোলন ঠেকাতে মিরসরাইয়ে ৯ শ্যালো মেশিন ধ্বংস

12

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ

13

কাঁঠাল থেকে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট

14

দেশের আট বিভাগীয় শহরে হবে রাবির ভর্তি পরীক্ষা

15

বিশ্বজুড়ে গম উৎপাদন কমতে পারে

16

ভেড়া পালনে আশিকের সাফল্য

17

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

18

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

19

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে চড়া মাছের বাজার

20