কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চড়ুইয়ের বাড়ি মহম্মদপুর

মাগুড়া সংবাদদাতাঃ 
মাগুড়ায় একটি সড়কের দুই পাশের গাছে গড়ে উঠেছে চড়ুই পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়। দলবেধে ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্যা চড়ুই পাখি প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে এখানে আসে। আবার সকালে খাবারের খোঁজে বের হয় তারা। এই পাখিদের কিচিরমিচির, ডানা ঝাপটানো আর দলবেঁধে ওড়াউড়িতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। 

এ জন্য জেলার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ব্যাসস্ট্যান্ড থেকে কলেজ রোড় পর্যন্ত এলাকাটি এখন স্থানীয়দের কাছে চড়ুই পাখির গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার সড়কের দুই ধাওে বেশ কয়েকটি কাঁঠাল, বট,  ও মেহগনি গাছ রয়েছে। এই গাছগুলো এখন শত শত চড়ুই পাখির রাতের বাসস্থান। প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে দল বেঁধে উড়ে এসে গাছগুলোর ডালে বসে ডাকাডাকি করে পাখিগুলো।

ভোরের আলো ফুটতেই চড়ুইয়ের দল গাছগুলো ছেড়ে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পড়ন্ত বিকেলে আবার ফিরে আসে এই গাছগুলোতে। দিনের পর দিন একই নিয়মে ফিরে আসায় জায়গাটি যেন তাদের স্থায়ী নিরাপদ নীড় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই আকাশে দেখা দেয় ছোট ছোট পাখির ঝাঁক। মুহূর্তেই গাছের ডালপালা ভরে যায় চড়ুইয়ে। কেউ ডালে বসে ডাকছে, কেউ আবার এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যাচ্ছে। কখনো দল বেঁধে আকাশে চক্কর দিচ্ছে, আবার মুহূর্তেই ফিরে আসছে আশ্রয়স্থলে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমামুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিকেলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই এখানে এসে জড়ো হয়। সন্ধ্যার আগে গাছগুলোতে নামার পর চারপাশ কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে। পাখিগুলোর এমন দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। মনে হয় শহরের মধ্যেই যেন একটি পাখির অভয়ারণ্য।

চড়ুইদের এমন চঞ্চলতায় পুরো এলাকা যেন হয়ে ওঠে ছোট্ট এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরাও অনেক সময় থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন পাখিদের এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

পথচারী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মহম্মদপুর বাজার থেকে এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করি। চড়ুই পাখির কলরব শুনলেই এখানে একটু থেমে দাঁড়াই। এতগুলো পাখি একসঙ্গে দেখা সত্যিই দারুণ লাগে। প্রকৃতির এমন দৃশ্য এখন খুব বেশি দেখা যায় না। 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মহম্মদপুরের চড়ুই চত্বর এখন শুধু পাখিদের আশ্রয়স্থল নয়, এটি এলাকার একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাইলে জায়গাটিকে ছোট পরিসরে ‘চড়ুই সংরক্ষণ এলাকা’ হিসেবে পরিচিত করতে পারেন। গাছগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি সেখানে পাখিদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এটি হতে পারে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি এটিএম আনিসুর রহমান বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ছোট্ট এই পাখিটির ভূমিকা থাকলেও নানা কারণে দিন দিন তাদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। পুরোনো গাছ কেটে ফেলা, নতুন ভবন নির্মাণ, ঝোপঝাড় কমে যাওয়া এবং খাদ্য ও বাসা বাঁধার উপযোগী জায়গা কমে যাওয়ায় চড়ুইয়ের নিরাপদ আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়ছে। চড়ুই শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রজননকালীন সময়ে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও তাদের লার্ভা খেয়ে এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও পাখিটির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএসভিইআরের নতুন কার্যনির্বাহি কমিটি গঠন

1

জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে নেতৃত্বে বাংলাদেশ

2

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

3

খুলনাঅঞ্চল থেকে ৪৮৮৬ কোটি টাকার রপ্তানী আয়

4

বগুড়ার সবজির চারা যাচ্ছে সারা দেশে

5

ডিলারশিপ বহাল ও কমিশন দ্বিগুণ করার দাবি বিএফএ’র

6

কাজিপুরে শত কোটি টাকার কম্বল বেচাকেনা

7

কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে

8

টেকসই কৃষি গড়তে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা

9

কাজিপুরে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ

10

কাঞ্চনপেয়ারা রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

11

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ

12

কৃষককে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযো

13

ঝালকাঠিতে কোটি টাকার আমড়া বিক্রি

14

জলাবদ্ধতা দূর করতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

15

রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের আবাদ

16

সাম্মাম চাষে জসীমউদ্দিনের সফলতা

17

জমির বিরোধে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

18

দিনাজপুরে আগাম শিম চাষে সফলতা

19

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনই বড় চ্যালেঞ্জ -কৃষিমন্ত্রী

20