কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পাট ছাড়িয়ে মজুরি দেয়া হচ্ছে পাটকাঠি

মাগুড়া সংবাদদাতাঃ 
মাগুড়ায় কৃষকদের জাগ দেয়া পাটের আঁশ ছাড়াতে শ্রমিকের মজুরি হিসাবে দেয়া হচ্ছে পাটকাঠি। এতে একদিকে কৃষকদের শ্রমিক খরচ কমছে, অন্যদিকে গৃহিণীরাও পাচ্ছেন রান্নার জ্বালানি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলছে এ পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানো। এ শ্রমিকের বেশিরভাগই গ্রামের নারী।

 মাগুরার শ্রীপুরের চন্দ্রপাড়া গোপালপুর, তারাউজিয়াল, কাদিরপাড়া, মহেশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি মাচার ওপর সারি সারি করে পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর পাটকাঠি শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। দিনশেষে মজুরি হিসেবে তারা নিচ্ছেন পাটকাঠি। পরে ভ্যানযোগে সেই পাটকাঠি নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের বাড়িতে।

শ্রীপুরের তারাউজিয়াল গ্রামের পাটচাষি বিকুল বলেন, ‘আমি কয়েক জায়গায় পাট জাগ দিয়েছি। সব জায়গাতেই অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে আসছেন। তাদের কাজের বিনিময়ে পাটকাঠি দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক খরচ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ফলে পাট চাষে বিনিয়োগ করা অর্থের একটা অংশ পাটকাঠি থেকেই উঠে আসছে।

শিউলী খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘বাড়িতে জ্বালানির সংকট রয়েছে। তাই পাট বাছতে এসেছি। কাজের বিনিময়ে টাকা না নিয়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছি। এতে বাড়ির জ্বালানির চাহিদা কিছুটা মিটছে।

একসময় পাটকাঠি শুধু রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে। পার্টিকেল বোর্ড তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম। ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে পাটকাঠি কিনে ভ্যানযোগে পার্শ্ববর্তী শহরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তারাও ভালো লাভ করছেন। 

পাটকাঠি ব্যবসায়ী রফিক মোল্যা বলেন, ‘এখন পাটকাঠি বিক্রির মৌসুম। আমরা পাটচাষিদের কাছ থেকে প্রতি আঁটি ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনছি। পরে শহরে গিয়ে সেই পাটকাঠি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। প্রতি ভ্যানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার উপপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর মাগুরা জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৮৩ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে গড়ে দুই টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। একসময় যে পাটকাঠি কেবল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সময়ের সঙ্গে সেই পাটকাঠিই এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় বাজেট, কৃষির হিস্যা ছোট

1

নেপালের পর্য টন নগরী পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফল বিক্রেতা প

2

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা জেলেরা

3

আগাম ফুলকপিতে পচনে দুশ্চিন্তায় কৃষক

4

পোল্ট্রি,ডেইরি,হিমাগার খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেবে ব্যা

5

বিশ্ববাজারে বড়লেখার উদ

6

সুনামগঞ্জে হাঁস-মাছ-গরু চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে

7

উল্লাপাড়ায় রফিকুল ইসলাম খান নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, হাজ

8

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

9

মিঠাপুকুরে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত গুড়

10

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

11

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

12

যশোরের জাপানি পার্সিমনের সাফল্য

13

হিলিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে

14

ইতালির সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বা

15

‘বাইকুনুর’ আঙুরে স্বপ্ন বুনছেন মুন্না

16

জলজ প্রাণী রক্ষায় সুন্দরবনে ১০ খালের মুখে কাঠের বেড়া

17

৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

18

হাঁস পালনে আতাউরের ভাগ্য বদল

19

খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান

20