কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঈশ্বরদীতে ল্যাম্পি স্কিনে গরু মরার হিড়িক

পাবনা সংবাদদাতাঃ 
পবনার ঈশ্বরদীতে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ ভায়াবহ আকার ধারন করেছে। এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। স্থানীয় খামারীদের তথ্যমতে গত দেড় মাসে এ রোগে প্রায় আড়াই শতাধিক গরু মারা যাবার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ধামারীরা। প্রাণি সম্পদ বিভাগের কাছে এ রোগের ভ্যাকসিন না থাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ। এত দিশেহারা স্থানীয় খামারিরা।

ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পশু থেকে পশুতে দ্রুত ছড়াচ্ছে এ রোগ। ভ্যাকসিন সংকটের কারনে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।



 চিকিৎসায়ও কোন কাজ হচ্ছে না। এমন অবস্থায় অনেক প্রান্তিক কৃষক ও খামারি মূলধন হারানোর ভয়ে আক্রান্ত কিংবা ঝুঁকিতে থাকা গরু কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খামারিদের ভাষ্য, সারা বছর নানা প্রতিকূলতায় লোকসান গুণতে হলেও ল্যাম্পি স্কিনের প্রাদুর্ভাব তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সুব্যবস্থা থাকলে এই অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রতিদিন আক্রান্ত গরু নিয়ে ভিড় করছেন খামারিরা। কিন্তু প্রতিষেধক না থাকায় কেবল মৌখিক 'পরামর্শ' নিয়ে খামারিদের ফিরে যেতে হচ্ছে। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে কৃষক ও ছোট-বড় খামার মিলিয়ে মোট গরুর সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। এর মধ্যে এ বছরই ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসেবে আক্রান্ত গরুর প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো আক্রান্ত বাছুরের ক্ষেত্রে এই মৃত্যুহার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। বাছুর গরুর এমন উচ্চ মৃত্যুহারকে চরম উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেনের ভাষ্য, উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও খামারে বাছুর গরু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভ্যাকসিন না থাকায় হাসপাতালে নিয়ে আসা আক্রান্ত গরুকেও অনেক সময় বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগের প্রতিষেধকের এক একটি বোতলের বাজারমূল্য প্রায় আড়াই হাজার টাকা। প্রতিটি বোতল থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ২ এম.এল করে প্রয়োগ করা গেলে আক্রান্ত গরুকে রক্ষা করা সম্ভব। তবে সরকারিভাবে এ ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ঢাকায় বারবার চাহিদাপত্র পাঠানো সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। দ্রুত এই সংকট দূর করা না গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে গরু মৃত্যুর হার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারনা এ কর্মকর্তার।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনাবৃষ্টিতে আমনের জমি ফেটে চৌচির

1

বরেন্দ্রে ১৭ জাতের দেশি কলার বিস্তার

2

৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ

3

নোয়াখালীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত

4

গাকৃবিতে ছয়টি হলে বৃক্ষরোপণ

5

মাগুরায় কৃষকের কলাগাছ কেটেছে দৃর্বৃত্তরা

6

খেজুরের বিচি থেকে কফি তৈরি

7

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা সার জব্দ

8

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

9

টেন্ডার না পেয়ে খামারবাড়িতে‘পিডিকে থাপ্পড় মারার হুমকি’

10

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

11

বিশ্বে সম্পদ ও আয়ের বড় বৈষম্য কোথায়, বাংলাদেশে চিত্র কেমন1

12

যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা

13

ফসল রক্ষা বাঁধের দুই হাজার ব্লক লুট

14

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

15

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

16

সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারী ৮ জেলে আটক

17

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

18

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

19

নড়াইলে বিল থেকে নির্বিচারে শামুক আহরণ

20