কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মরিচের চারায় সবুজ হচ্ছে যমুনার চর

বগুড়া সংবাদদাতাঃ 
মরিচের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সোনাতলার যমুনাপাড়ের কৃষকরা। বগুড়ার ঝাল মরিচের সুনাম ছড়িয়ে আছে সারা দেশে। জেলার পূর্বাঞ্চলের বাঙালি ও যমুনার বিস্তীর্ণ চর এখন সবুজ হয়ে উঠছে মরিচের চারায়। এসব খেতে পরিচর্যায় দিনরাত এক করে শ্রম দিচ্ছেন চাষীরা। মরিচ চাষে প্রতি বছর তারা ভাল টাকা আয় হবার কারনে তাদের এই বাড়তি যত্ন। 

সোনাতলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমেও একই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ হয়েছিল। গত মৌসুমে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও কৃষকরা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে খরিপ মৌসুমের মরিচের চারা রোপণ চলছে। প্রায় ২০ দিন পর রবি মৌসুমের চারা রোপণ শুরু হবে।

স্থানীয় জাতের বগুড়া মরিচের পাশাপাশি এবার বিজলী প্লাস, নবীন ও ১৭০১ জাতের হাইব্রিড মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। হাইব্রিড জাতের মরিচে বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। স্থানীয় জাতের মরিচের ফলন হয় ৪০ থেকে ৪৫ মণ। তবে হাইব্রিডের তুলনায় স্থানীয় জাতের মরিচ বেশি ঝাল। এ জাতের মরিচই বগুড়া মরিচ নামে পরিচিত।

সোনাতলার পূর্বাঞ্চলের মধুপুর, তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের যমুনাতীরবর্তী চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে মরিচের চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ। ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী বা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার চারা মূল জমিতে রোপণ করা হয়। রোপণের পর চলছে চারার পরিচর্যা। সারির মাঝখানে হাতে তৈরি যন্ত্র দিয়ে নিড়ানি দেওয়া ও মাটি আলগা করার কাজ করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, মরিচগাছের গোড়া কিছুটা আলগা রাখতে হয়। চারা রোপণের পর কয়েক দিন গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হয়। পরিচর্যা ঠিকভাবে হলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে গাছ প্রায় এক ফুট পর্যন্ত বেড়ে ওঠে। তখন চরের সাদা মাঠ সবুজে ভরে ওঠে।

পূর্ব তেকানীর মরিচচাষি ছানাউল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমরা বগুড়ার মানুষ, মরিচের দাম পাই বা না পাই, চাষ করতেই হবে। তবে উৎপাদন করে কিছু লাভ হলে কৃষকরা খুশি হন। এ অঞ্চলে আগের তুলনায় এখন মরিচ চাষ বেড়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’

মহেশপাড়া গ্রামের মরিচচাষি আবু তাহের জানিয়েছেন, গত মৌসুমে মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় এবার চাষ বেড়েছে। এর আগের কয়েক বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছিল। যতটুকু ফসল পাওয়া গিয়েছিল, তাতেও ভালো দাম না পাওয়ায় কৃষকদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, গত মৌসুমে উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছিল এবং কৃষকরা ভালো দামও পেয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় এবার তারা আরও বেশি আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে খরিপ মৌসুমের মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই রবি মৌসুমের মরিচ রোপণের কাজ শেষ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপার হট মরিচে চাষে কামালের সাফল্য

1

উত্তরাঞ্চলে কৃষি অর্থনীতির সম্প্রসারণে ৩ হাজার কোটি টাকার পু

2

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

3

১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার

4

রাজশাহীতে আলু নিয়ে বিপাকে হিমাগার মালিকরা

5

তরমুজ চাষে নুর উদ্দিনের সাফল্য

6

পুকুরে পাট জাগ দিতে বিঘায় নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা

7

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা জেলেরা

8

কাজিপুরে জাম্বুরার ভালো দাম পেয়ে খুশি গাছিরা

9

খালের নেটপাটা অপসরন করলো স্থানীয়রা

10

প্রাণী,কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে মতিন

11

কাঁঠালের খোসা থেকে পরিবেশবান্ধব চামড়া

12

মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’-কৃষিমন

13

দেশের তিন পাটকল আবার চালু হচ্ছে

14

দিনাজপুরে এক হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার আম বিক্রি

15

৭ মাস পর উৎপাদনে ফিরছে যমুনা সার কারখানা

16

পানির দামে গোলাপ বিক্রি

17

বরেন্দ্রে ১৭ জাতের দেশি কলার বিস্তার

18

মিশ্র ফল চাষে চালক মিজানের বাজিমাত

19

মজা সুপারির বাজারে ধস

20