কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আমন চাষের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

যশোর সংবাদদাতাঃ 
যশোরের সদর উপজেলায় এবার আমন ধানের ভাল ফলনের আশা করছেন চাষীরা। তবে চাষাবাদে তাদের সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর বিপরীতে ধানের দাম কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

যশোর সদর উপজেলায় মাঠে মাঠে আমন ধানের ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে। ধানের জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। এখানকার হাট-বাজারে সারের সরবরাহ পর্যাপ্ত। ফলে চাষাবাদে তেমন কষ্টে পেতে হয়নি চাষীদের। আবহাওয়া ভাল থাকলেও তারা ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে ধানের বাজারদর সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় লাভের হিসাব মিলছে না কৃষকদের।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে ধান চাষে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
সদর উপজেলার কৃষক মামুন হোসেন ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেলেও বাকি ৩ বিঘায় ধানের অবস্থা ভালো। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সারের সংকট অনুভব করেননি। কয়েক দিন আগে সার কিনেছেন। জমি নিড়ানোর পর আবার সার কিনতে গেলে তখন সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

আলাউদ্দিন নামে আরেক কৃষক বলেন,উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ধানের পাশাপাশি কীটনাশকের দামও বেশি। মাজরা, পচন ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

আলাউদ্দিনের মতে, প্রতি মণ ধানের দাম অন্তত ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা হলে কৃষকেরা কিছুটা লাভ করতে পারবেন।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো কৃষকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নেওয়া যাবে না এবং চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে হবে। কোনো ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করছেনÑএমন অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ উপজেলার কৃষকদের দাবি, শুধু সারের সরবরাহ নিশ্চিত করলেই হবে না; সার, কীটনাশক, সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের ন্যায্য বাজারমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি ধান উৎপাদনে অনেক কৃষকই আগ্রহ হারাতে পারেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদারীপুরের চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন

1

রফতানিমুখী বাণিজ্যিক কৃষি : উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ

2

৬ বছরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

3

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

4

বন্যপ্রাণীদের বন্ধু সীতেশ আর নেই

5

রাজশাহী জেলায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

6

রাজশাহী মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দেশের প্রধান অঞ্চল

7

মালচিং করলা চাষে ইমরানের সাফল্য

8

কুড়িগ্রামে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান

9

লোডশেডিংয়ে পচে যাচ্ছে আল,চাউল উৎপাদনে ধ্বস

10

আঙুর চাষে কলেজছাত্র রুহুলের সাফল্য

11

পচা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

12

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

13

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

14

পুকুরে বিষ দিয়ে ৯০ মন মাছ নিধন

15

বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ফেনীতে দুই ডিলারের জরিমানা

16

দেশীয় রানী মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

17

ইলিশ ছাড়াই ফিরছে শূন্য ট্রলার

18

ভেজাল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীকে জরিমানা

19

চড়া দামে দুধ বিক্রি করছে মিল্ক ভিটাঃ খামারি দিচ্ছেন লস

20