কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিলে হাঁস পালনে তরুণদের কোটি টাকার ডিম উৎপদন

নড়াইল সংবাদদাতাঃ 
বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বিলের পানিতে মুক্তভাবে হাঁস পালন করছে নড়াইলে বেকার তরুন যুবকরা। মাত্র ৫-৬ মাস এভাবে হাঁস পালন করে অসংখ্যা তরুন খামারীরা একেক জন আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। যা তাদের সংসারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি কর্শসংস্থানের পথ খুলে দিয়েছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলায় বাড়ছে হাঁস খামারীর সংখ্যা।

নড়াইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে অসংখ্যা খাল-বিল,নদী। বর্ষা মৌসুমে এসব স্থানে হর হামেশা দেখা মেলা দল বেধে হাজার হাজার হাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের হাক ডাকে মুখর থাকে পুরো এলাকা। খাল বিলের পাড়ে অস্থায়ী তাবু টাঙ্গিয়ে বেকার যুবকরা এসব হাঁসের খামার করে মুক্তভাবে লালন পালন করেন। দিনভর এসব হাঁস প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে রাতে খামারে এসে ডিম দেয়। বর্ষা মৌসুমে ৬-৭ মাস তারা এভাবে হাঁস পালন করেন। এই পদ্ধতিতে হাঁস পালনে তেমন বাড়তি কোন খরচ নেই। 

খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে এভাবে হাঁস পালন করতে পারায় অল্প খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ পাচ্ছেন খামারীরা। এতে বাড়ছে উদ্যোক্তা ও খামারের সংখ্যা, তেমনি বাড়ছে ডিম উৎপাদনও। জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে এ জেলার অস্থায়ী খামারিরা প্রায় দেড় কোটি হাঁসের ডিম উৎপাদন করছেন। যার বাজারমূল্য ২২ কোটি টাকার বেশি। এভাবে হাঁসের খামার করে বেকার তরুনরা এখন ভাল টাকা আয় করছেন।

জেলার লোহাগড়া, কালিয়া ও সদর উপজেলার ইছামতি, শোলপুর, কলোড়া, পাটেশ্বরী, শরুসুনাসহ ১৫-১৬টি বিলের আশপাশের গ্রামের অসংখ্য কৃষক ও যুবক এভাবে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন।

এ জনপদের মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ। বেশ কয়েক বছর ধরে নিজ উদ্যোগে জেলার তিন শতাধিক কৃষক ও তরুণ বর্ষা মৌসুমে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন। যা এখন তাদের আয় রোজগারের পথ খুলে দিয়েছে। 
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে নড়াইল থেকে প্রতি বছর মোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে এসব হাঁসের খামারের ডিমই প্রায় দেড় কোটি। 

মুক্তভাবে হাঁস পালন করছেন লোহাগড়া উপজেলার শরুসুনা গ্রামের খামারি মো. তুহিন শেখ। কয়েক বছর আগে তিনি ১৫০ হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। ওই বছর তার লাভ হয় লক্ষাধিক টাকা। প্রতি বছর তার খামার বড় করছেন। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা চার শতাধিক। এ বছর তিনি এই হাঁস পালন করে অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের খামারি মো. জিহাদ বলেন, ‘প্রতিবেশী বড় ভাইদের দেখে পাঁচ বছর আগে ২০০ হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেছিলাম। প্রথম বছর থেকেই ভালো লাভ হচ্ছে। প্রতি বছর খামারে হাসের সংখ্যা বাড়িয়েছি। বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০। আশা করছি, এ বছর ছয়-সাত লাখ টাকা লাভ হবে।’
প্রতিদিন সকালে খামার থেকে সংগৃহীত ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করেন খামারীরা। এই সময়ে প্রতিটি খামারের প্রায় ৯০ শতাংশ হাঁসই নিয়মিত ডিম পাড়ে। বছরে টানা সাত-আট মাস পর্যন্ত এসব খামার থেকে পর্যাপ্ত ডিম পাওয়া যায়। যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। হাঁসের মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা ও ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। বর্তমানে জেলায় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৭টি হাঁস রয়েছে। প্রতি বছর এ জনপদে হাঁসের খামার বাড়ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিষমুক্ত তরমুজ চাষে সফল উদ্যোক্তা শাহজাহান

1

কপোতাক্ষের পাড়ে ময়লার ভাগাড়

2

রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে বিক্ষোভে কৃষক

3

কাজিপুরে ডিমের হালি ৫০ টাকা!

4

পানিফল চাষে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

5

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

6

সারা দেশে সার নিয়ে কৃষকের অসন্তোষ বাড়ছে

7

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ

8

হলুদ-সবুজ তরমুজ চাষে হাসানুরের সাফল্য

9

রঙিন মাছ চাষে আব্দুল্লাহর সাফল্য

10

অসময়ে তরমুজ চাষে মিজানের সাফল্য

11

বান্দরবানে খাদ্য সংকটে গাইড-মাঝি

12

‘নবীর ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারের আলোকে দেশ পরিচালনার সর্

13

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬০ পরিবার পেল সহায়তা

14

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

15

৩৯৫ কেজি ইলিশ গেলো এতিমখানায়

16

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

17

শত বছর ধরে বসছে ভাসমান সবজির হাট

18

পুকুরে মাছ চাষাবাদের গ্রাম

19

সোহেল রানার বাগানে এখনও ঝুলছে আম

20