কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শত বছর ধরে বসছে ভাসমান সবজির হাট

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ 

বাগেরহাটের শত বছর ধরে বসছে ভাসমান সবজির হাট। কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের গজালিয়া খালের বুকে নৌকার উপর বসে এই ব্যতিক্রম হাট। এখানকার সবজি যাচ্ছে সারা দেশে। 

কচুয়া উপজেলার গজালিয়া সবুজে ঘেরা খালের বুকজুড়ে সারি সারি নৌকা। এর উপর বসে হাট। এসব নৌকায় শসা, কোনোটায় করলা; আবার কোথাও চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙে কিংবা বরবটি পসরা। কৃষকরা বাগান থেকে এসব তুলে নিয়ে আসেন হাটে। বেলা যত বাড়ে হাটে তত নৌকার সংখ্যা বাড়তে থাকে। কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সকাল থেকেই মুখর পুরো এলাকা। পানির ওপর বসা এই ব্যতিক্রমী ভাসমান হাটে মাত্র চার ঘণ্টাতেই কেনাবেচা হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি। আর পুরো মৌসুমে এই হাটে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকা।

সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বুধবার বসে এই ভাসমান সবজি হাট। যা চলে আসছে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। 

শুধু স্থানীয়রাই নন, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে আসেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এখান থেকেই কৃষকের উৎপাদিত টাটকা সবজি সরাসরি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। 

স্থানীয় কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, জমিতে চাষ করা সবজি নিয়ে আমরা নিয়মিত এই হাটে আসি। পাইকার বেশি থাকায় দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং ভালো দামও মেলে। এই হাট আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।

ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় এই হাটে রয়েছে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা। বিশেষ করে জরাজীর্ণ সড়ক ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাটের পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে কেনাবেচার পরিধি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামুন মোল্লা নামে এক চাষি বলেন, ট্রলার বা নৌকায় সবজি আনতে পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগে। তবুও এখানে আসি, কারণ একসঙ্গে অনেক সবজি বিক্রি করা যায়। হাটের যোগাযোগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে আমরা আরও বেশি পণ্য আনতাম।

হাটে নৌকায় সবজি আনা-নেয়া পরিবহের সাথে যুক্ত থাকা স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। 

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, নৌকার সারিতে সাজানো টাটকা সবজি আর কৃষক-ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখর হওয়া শতবর্ষী এই হাট কেবল বেচাকেনার কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জয়পুরহাটের আলু চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে

1

বিষমুক্ত তরমুজ চাষে সফল উদ্যোক্তা শাহজাহান

2

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

3

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

4

শিবির থেকে ৯ নেতার বিদায়

5

কুড়িগ্রামে ৫শ’ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ

6

পদ্মায় বৈদ্যুতিক শক নিয়ে মাছ নিধন

7

বাগানে ঝুলছে কল্যাণভোগ আম

8

যে হাটে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়

9

লোকালয়ে খাদ্যের খোঁজে বানর হনুমানের দল

10

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

11

সাপের কামড়ে ১৩ জন হাসপাতালে

12

বিষ দিয়ে নার্সারির গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

13

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

14

৮ কোটির চিংড়ি ল্যাব অকার্যকর

15

বাঘের হামলায় স্বামীহারা ৩১ পরিবার পেল ছাগল

16

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

17

পানির অভাবে আমন খেত ফাটল

18

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডে প্রণোদনা পাচ্ছেন ১১০৩৬৪ কৃষক- কৃষি

19

লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ

20