কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চিংড়ির ঘেরে শোল চাষে সাফল্য

খুলনা সংবাদদাতাঃ 
খুলনায় চিংড়ি চাষের মৎস্য ঘেরে এখন শোল মাছ চাষাবাদ করছেন অনেক চাষী। চিংড়ি চাষে নানা ক্ষতির মুখে পড়ে তারা এ মাছ চাষাবাদে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। কম খরচ,ঝুঁকি কম এবং বাজারে চাহিদা থাকায় দ্রুত বাড়ছে এ চাষাবাদের পরিধি। 

খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় এখন শোল মাছ চাষাবাদ বাড়ছে। এখানকার ছোট ছোট পুকুরে এই মাছ চাষাবাদ করছেন চাষীরা। শোল চাষ করে কেউ ফিরেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতায়, কেউবা গড়ে তুলছেন নতুন কর্মসংস্থান। চাষিদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যদেরও আগ্রহ বাড়ছে।

চিংড়ি চাষে ভাইরাসের আক্রমণ, লবণপানির সংকট, খরা ও অতিবৃষ্টির কারণে বারবার লোকসানের মুখে পড়ছেন খুলনার চাষিরা। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে দেশি প্রজাতির শোল মাছ চাষে ঝুঁকছেন তারা।

পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরাবাদ গ্রামের জাকিরের জীবনেও পরিবর্তন এনেছে শোল মাছ চাষ। একসময় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। দুই বছর আগে সরকারি চাকরিজীবী চাচাতো ভাই রেজওয়ানের সহযোগিতায় যৌথভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি পোনা ছেড়ে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেন তারা। এতে খরচ হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরে ২ হাজার ৫০০টি পোনা থেকে মাছ বিক্রি করেন ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার, যেখানে খরচ হয় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। দুই বছরের অভিজ্ঞতায় এখন নিজেই মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন জাকির। অন্যদিকে, রেজওয়ান নতুন করে ২ হাজার ৫০০ পোনা ছেড়েছেন।

ডুমুরিয়ার চাষি উত্তম মণ্ডল একসময় চিংড়ি চাষ করতেন। বারবার লোকসানের মুখে পড়ে চলতি বছর ৫০ শতক জমির চারটি পুকুরে ১২ হাজার ৪০০টি শোল মাছের পোনা ছাড়েন তিনি। পাঁচ মাসে মাছের গড় ওজন হয়েছে প্রায় এক কেজি। বর্তমানে প্রতি কেজি মাছ বিক্রি করছেন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে। উত্তম জানান, চারটি পুকুরে তার খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা। মাছ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রামে শোল মাছ চাষ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় তিন শতাধিক পুকুরে এ মাছের চাষ হচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকে গ্রামটিকে এখন ‘শোল মাছের রাজধানী’ বলে ডাকেন। মাছের খাদ্য তৈরি, পুকুর পরিচর্যা ও বিপণন ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন গ্রামের অধিকাংশ মানুষ। নারীরাও অংশ নিচ্ছেন মাছের খাদ্য তৈরির কাজে।

স্থানীয় চাষি মো. হাসান ছয় শতকের পুকুরে ২ হাজার ৬০০ পোনা ছেড়েছেন। সাত থেকে আট মাসে মাছের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়। বছরে তার খরচ সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আর মাছ বিক্রি করেন সাত থেকে আট লাখ টাকার।

ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নের মাদারতলা গ্রামের লক্ষী মণ্ডলও শোল চাষে সাফল্য পেয়েছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ শতকের পুকুরে চার হাজার পোনা ছাড়েন তিনি। পোনা বেঁচে থাকার হার ছিল ৮০ শতাংশ। ২১০ দিনে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। মাছ বিক্রি করে আট লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। বর্তমানে তার পুকুরের মাছের গড় ওজন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম।

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, চিংড়িপ্রধান এলাকায় অল্প জায়গায় দেশি মাছের চাষ জনপ্রিয় হওয়া ও লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মাছ চাষকে আরও সমৃদ্ধ করতে তারা কাজ করছেন।
পাইকগাছার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, জীবিকার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে স্থানীয়দের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উৎপাদনের চেয়ে নিরাপদ ও গুণগতমানের খাদ্য নিশ্চিত করাই বড় চ্যা

1

৫০ হাজার চিংড়ি পিএল জব্দ

2

ফরিদপুরে ৫শ’কোটির পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন

3

বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কাজিপুরে কাঁচাবাজারে মুল্য বৃদ্ধি

4

স্বেচ্ছাশ্রমে ১৩ কিলোমিটার খাল পরিস্কার

5

হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকা বিতরণ

6

চুয়াডাঙ্গায় আনারকলি চাষে সাফল্য

7

ইউজিসিতে নতুন তিন সদস্য

8

জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্স এলো ৬ বিলিয়ন ডলার

9

পাহাড়ে জুমের ধানকাটা শুরু

10

আলুর পর করলাতেও লোকসান

11

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

12

মেঘনায় মিলল ১৬ কেজির কোরাল

13

উল্লাপাড়ায় বাড়ছে আখ চাষাবাদ

14

জমজমাট সাপাহার আম বাজার

15

১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

16

রাজবাড়ীতে দেশি মাছের উৎপাদনে ফিরছে সুদিন

17

আনারসের পাশে চাষ হচ্ছে কাজুবাদাম

18

চাটমোহরে কুকুর হত্যার অভিযোগ

19

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

20