গাজীপুর সংবাদদাতাঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সরাসরি তুরাগ নদে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এতে একসময়ের স্বচ্ছ পানির নদটি এখন বিশাল এক ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই নদের অন্তত ৮টি পয়েন্টে সরাসরি বর্জ্য ফেলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে খোদ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এমনিই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের।
গাসিকের কড্ডা, কোনাবাড়ী ও বাইমাইল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত কঠিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, আগে এই নদীর পানি গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যেত এবং প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন পানি এতটাই বিষাক্ত যে স্পর্শ করার উপায় নেই।
কড্ডা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও আবুল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, একসময় মানুষ ও গবাদিপশু এই নদীতে গোসল করত, কিন্তু এখন নদীতে নামাই যায় না। রাতের আঁধারে এমনকি সকালেও সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে নদীতে ময়লা ফেলে যাচ্ছে।
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘জোর করে আমাদের বাসার সামনে এবং নদীতে ময়লা ফেলা হচ্ছে। বাধা দিলেও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ শুনছে না। দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে এবং আমরা নানারকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ মনির হোসেন বলেন, ‘নদীতে বর্জ্য ফেলা আইনত নিষিদ্ধ। নদী একটি জীবন্ত সত্তা, একে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। যারা দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নদী দূষণের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা বলেন, ‘শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়। জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সবটুকু সঠিক উপায়ে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কড্ডা ও গাছা অঞ্চলের ডাম্পিং স্টেশনগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ ড্রেন ও জলাশয়ে ময়লা ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে পড়ে। তবে নদী দূষণ রোধে বর্তমান প্রশাসক নিরলস কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
কৃ/স/জয়