কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কোয়েল ও মুরগি খামারে দুলালের সাফল্য

চাঁদপুর সংবাদদাতাঃ 
কোয়েল ও মুরগীর খামার করে সাফল্য পেয়েছেন দুলাল মুন্সি নামে প্রবাস ফেরত এক উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে নিজ বাড়িতে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল খামার। যেখানে নিজে স্বালম্বী হবার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এই উদ্যোক্তার বাড়ী চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কহলথুড়ি এলাকায়।

জানা যায়,২০২০ সালে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এই উদ্যোক্তা দেেেশ রমাটিতে ভাল কিছু করা চিন্তা করেন। এরপর তিনি নিজেই শুরু করেন কোয়েল পাখি পালন ও হ্যাচারি। ইউটিউব দেখে শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এখন খামারটি বড় আকার ধারণ করেছে। এখন সারা দেশ থেকে মানুষ তার হ্যাচারিতে কোয়েল পাখি ও ফাউমি মুরগি সংগ্রহ করতে আসেন। কেউ খামার গড়ে তুলতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পাখি সরবরাহের আশ্বাসও দিচ্ছেন।

দুলাল মুন্সির ‘ইলমা টাইগার এন্ড কোয়েল হ্যাচারী’ খামারে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোয়েল পাখি এবং ৬০০টি ফাওমি মুরগি রয়েছে। খামারের নিয়মিত পরিচর্যা ও দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৬ জন শ্রমিক। প্রতিদিন সকাল হলেই কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে খামারে ছুটে যান দুলাল মুন্সী। পাখি ও মুরগির খাবার দেওয়া, পরিচর্যা, ডিম সংগ্রহসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটে তার।

জানা যায়, ফাউমি মুরগি সাধারণত সাড়ে চার মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত নিয়মিত ডিম দেয়। খামারে থাকা ৬০০টি ফাউমি মুরগি থেকে নিয়মিত ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার কোয়েল পাখি থেকেও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিম হিসাব করে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হয়। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতেও এসব ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে।

খামারের উদ্যোক্তা দুলাল মুন্সী জানান,শুরুতে অনেক বাধা থাকলেও ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়িয়েছি। এখন এই খামার থেকে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।’ শিক্ষিত বেকার তরুণদেরও চাকরির পেছনে না ছুটে সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামীতে কোয়েল পাখি ও ফাউমি মুরগির ডিমের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে খামারটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। 

কচুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, ‘দুলাল মুন্সী বিদেশ থেকে দেশে এসে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কোয়েল ও মুরগির হ্যাচারী করেছে, তা বিরল দৃষ্টান্ত।  তার দেখাদেখি কোনো উদ্যোক্তা খামার করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে এবং দুলাল মুন্সীর খামার পরিদর্শনে গিয়েও বৃহৎ আকারে তা স্থাপনে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

1

ফরিদপুরে লোকসানের মুখে মরিচ চাষিরা

2

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

3

কুমড়া বড়িতে ভাগ্য বদলাচ্ছেন নারীরা

4

বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় সংকটে লতিরাজ কচুর সম্ভাবনা

5

হাঁসের খামারে সচ্ছল হচ্ছে খামারিরা

6

কুড়িগ্রামে পাটের বীজ উৎপাদন বাড়ছে

7

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

8

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

9

আঙুর চাষে কলেজছাত্র রুহুলের সাফল্য

10

হাওরে ভরা মৌসুমেও মাছের আকাল

11

হ্যাচিং এগ রপ্তানী শুরু

12

মাশরুম চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য

13

ক্যাডেটরা গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী হতে চলছে : মৎস্য ও

14

৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যহারের নির্দেশ

15

বরেন্দ্রে ১৭ জাতের দেশি কলার বিস্তার

16

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু

17

হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা

18

কৃষি খাতে স্থবিরতা

19

২০ বছর ধরে বন্ধ মৎস্য হ্যাচারি

20