কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নানা ধরনের বিদেশি ফল,ফসল চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণনের মাধ্যমে অনন্য সাফল্যের নজির গড়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা। এমন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি অর্জন করেছেন জয়িতা ও জাতীয় পুরস্কার। সংগ্রামী ওই নারী উদ্যোক্তার নাম খাদিজা বেগম। তিনি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়,২০১৪ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার,ব্যবসা আর কৃষি কাজের কঠিন দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন খাদিজা বেগম। ২০১৮ সালে বাড়ির পেছনের পরিত্যক্ত জমিতে শুরু করেন আধুনিক ফলের বাগান। সেখানে ড্রাগন ফল, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ শুরু করেন। শুধ ফলই নয়। মেধাবী এই নারী বাগানে রোপন করেন প্রায় ৬শ’কফি গাছ। অল্প দিনের মাথায় গাছে পল আসার পর বিষয়টি কৃষি বিভাগের নজরে আসে। তারা তাকে উন্নত জাতের কফি চারা এবং প্রক্রিয়াজাত যন্ত্রপাতি দেন। এখন তিনি বাগানের হরেক রকম বিদেশি ফল, ফসল ও চারার পাশাপাশি কফি বিক্রি করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইনে ভালো আয় করছেন। শক্তহাতে সংসারের হাল ধরে এখন তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। 

বর্তমানে খাদিজা বেগমের তিন একর জমির বাগানে ২৪ প্রজাতির বিদেশি ফল ও ফসল রয়েছে। এর মধ্যে কফি গাছের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। নিজের সংগ্রাম, সাহস ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন সফল নারী উদ্যোক্তাই নন, উত্তরাঞ্চলের বিকল্প কৃষিরও একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছেন।

কফি, রাম্বুটান ও কোকো চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে খাদিজা বেগম ২০২২ সালে জয়িতা পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর তিনি মৎস্য চাষে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক হিসেবেও সনদ পেয়েছেন তিনি।

নারী উদ্যোক্তা খাদিজা খাতুন জানান, আমার বড় ছেলে ঢাকায় থাকত। আমাদের বাড়ির পাশে অনেক পরিত্যক্ত জমি ও বাঁশঝাড় ছিল। সে আমাকে বলল, জায়গাগুলো পরিষ্কার করে একটি বাগান করা যায়। আমি তাকে সাহস দিলাম। এরপর ২০১৮ সালে আমরা ড্রাগন ফল, রাম্বুটান ও অ্যাভোকাডো দিয়ে বাগানের কাজ শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে কফি চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ি। প্রথমবার প্রায় ৬৮০টি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি কফি পেয়েছিলাম। এটি দেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমাকে আরও নতুন জাতের কফির চারা দেয়। দুই বছর পর সেগুলো থেকেও ভালো ফলন পাই। প্রথমদিকে ড্রাগন ফল বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছি। বর্তমানে বাজারে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমলেও আমি এখনও নিরাপদ ও সতেজ ফল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বাগানে প্রায় ২০টি রাম্বুটানের চারা লাগিয়েছিলাম। এর মধ্যে আটটি মারা গেছে, বর্তমানে ১২টি গাছ রয়েছে। গত মৌসুমে মাত্র পাঁচটি গাছ থেকেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার রাম্বুটান বিক্রি করেছি। পাশাপাশি কফি তো আছেই।

গ্রামীণ নারী ও কৃষিভিত্তিক শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে খাদিজা বেগমের আহ্বান, চাকরির পেছনে না ছুটে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমি কাজে লাগিয়ে কৃষিতে আত্মনিয়োগ করলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান বলেন,অপ্রচলিত বিদেশি ফল একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি যেভাবে সফলভাবে উৎপাদন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি মেশিন এরই মধ্যে তাকে দেওয়া হয়েছে। অল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আমরা সব সময় তার পাশে আছি। আগামীতে বেগম রোকেয়া পদকের জন্যও তার নাম মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

1

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২,৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

2

শিবির থেকে ৯ নেতার বিদায়

3

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

4

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

5

হাতে খবরের কাগজ, চোখে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে ছুটছেন সংগ্রামী নার

6

গাসিকের বর্জ্যে বিপন্ন তুরাগ নদ

7

বোরো মৌসুমে জ্বালানিতে টান

8

আল-আরাফাহ ব্যাংক ফিরিলো পুরোনো মালিকদের হাতে

9

তিন বছরে পার্টনার প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২২ শতাংশ

10

সরকারি গাছ কাটায় ৩ জনের দণ্ড

11

লক্ষীপুরে নির্মাণ হবে বাফার গুদাম

12

রাজশাহীতে প্লাস্টিক বর্জ্যে জলাবদ্ধতা

13

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার

14

গাইবান্ধায় জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের যাত্রা

15

কোয়েল পালনে শামীমের ভাগ্য বদল

16

সিরাজগঞ্জের কৃষকরা পাট ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত

17

হিমাগারের অভাবে বিপাকে কৃষক

18

জমির বিরোধে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

19

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভূমিকম্প বিষয়ক প্রস্তুতি সভা

20