কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অনাবাদি জমিতে ড্রাগন চাষ সফলতা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা মিলেছে। এখানে প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই বাগান । যেখানে প্রায় ১৪ হাজার থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। যা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছে বাগানের উদ্যোক্তা। চায়ের মাটিতে ড্রাগনের এই ফলন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

সিরাজনগর চা বাগানের এক একর পতিত জায়গাজুড়ে এখন সারি সারি ড্রাগন গাছ। যার সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ। গাছে গাছে ফলের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে নিচের দিকে। প্রতিটি গাছেই অসংখ্যা ফল। 

সিজানগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালে মাত্র ১২ লাখ টাকা বিনিয়গে এই ড্রাগন বাগান গড়ে তোলেন। দ্বিতীয় বছর থেকেই এই বাগানে ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়Ñএটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহÑবিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে। 

চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।

সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন,চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা  দেখা দিয়েছে। বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত। 

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন,চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না। এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা  তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লোহাগড়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগ

1

আউশের ভাল ফলনেও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

2

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

3

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার ঘরে

4

৫০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

5

শিবির থেকে ৯ নেতার বিদায়

6

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

7

৩০০টি উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

8

রাবার ড্যামের ছিদ্রে ঝুঁকিতে চাষাবাদ

9

সমন্বিত কৃষি খামারে সফল হুমায়ুন

10

ব্ল্যাক সুগারকেইন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

11

ছোট ফেনী নদীর ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

12

ডিলারশিপ বহাল ও কমিশন দ্বিগুণ করার দাবি বিএফএ’র

13

হাওরে ভরা মৌসুমেও মাছের আকাল

14

পতিত জমি চাষাবাদে আনতে বিএডিসির উদ্যোগ

15

দুধ উৎপাদন কমায় ক্ষতির মুখে খামারিরা

16

মজা সুপারির বাজারে ধস

17

সাড়া ফেলেছে ভেষজ লেমন ঘাসের চা পাতা

18

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

19

নদীতে ইলিশের অভাবে দেনার দায়ে জেলে

20