কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিরামপুরে বারোমাসি সজনে চাষাবাদ

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ 
দিনাজপুরের বিরামপুরে বারোমাসি সজনে চাষাবাদ হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছে ধরেছে প্রচুর সজনে। ইতোমধ্যে এসব সজনে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই চাষাবাদ উপজেলার অণ্য চাষীদেরও নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। 

জানা যায়, উপজেলার বিজুল, আয়ড়া, কেটরাহাট, শিবপুর, ভাইগড় ও কাটলা এলাকার সড়কের দুই ধারে লাগানো হয়েছে এসব গাছ। সড়কের পাশে সারি সারি সজনে গাছের ডালে ডালে ডাটা আসতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে লাগানো এসব গাছে এখন ডাটা ধরতে শুরু করেছে। গাছ থেকে সংগ্রহ করা সজনে বাজারেও আসছে।

বিরামপুরের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি সজনে ডাটা পাইকারিতে ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং খুচরায় ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা থাকায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সজনে পাঠানো হচ্ছে বলে স্থানীয় বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরিকল্পিতভাবে বারোমাসি জাতের এই সজনে উৎপাদন করা গেলে তা পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

উপজেলার ভেলারপাড় গ্রামের কৃষক মোজাহার আলী ও ইয়াসিন আলীর বাড়িতে রয়েছে দুটি সজনে গাছ। তারা জানান, এ বছর গাছ দুটিতে ভালো ডাটা ধরেছে। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ডাটা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তাদের অভিজ্ঞতায়, বাড়ির আশপাশে জায়গা থাকলে সজনে গাছ পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মধ্যে সমন্বয় করা গেলে বারোমাসি সজনে স্থানীয় কৃষিতে সম্ভাবনাময় একটি সংযোজন হতে পারে। বিরামপুরের চার হাজার গাছ এখন সেই সম্ভাবনার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। মৌসুমের সীমা পেরিয়ে নিয়মিত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে সজনে একদিকে যেমন পুষ্টিকর সবজির জোগান বাড়াবে, অন্যদিকে কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সজনে মৌসুমে ক্রেতাদের চাহিদা থাকে। তবে দাম বেশি হলে অনেকে পরিমাণে কম কেনেন। বাজারে সরবরাহ বাড়লে বিক্রি বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বারোমাসি গাছ থেকে নিয়মিত ডাটা পাওয়া গেলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সজনে বিক্রির সম্ভাবনাও বাড়বে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের দিকে উপজেলায় প্রায় চার হাজার বারোমাসি সজনে গাছ লাগানো হয়েছে। বিজুল, আয়ড়া, কেটরাহাট, শিবপুর, ভাইগড় ও কাটলা এলাকার সড়কের দুই ধারে এসব গাছ রয়েছে। গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ডাটা ধরতে শুরু করেছে এবং উৎপাদিত সজনে বাজারে আসছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সজনের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পুষ্টিকর সবজির জোগান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দখল-দূষণে ভরাট হচ্ছে ধলিয়া জলাশয়

1

দাম নেইঃ পানের বরজ ভাঙছেন চাষী

2

বৃক্ষ মেলায় একটি বনসাই দেখতে ভিড়

3

তেলের দাম বাড়লো ৯০ ডলার

4

রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের আবাদ

5

মজুত করা পেঁয়াজ পচনে দিশেহারা কৃষক

6

গোডাউনের তালা ভেঙে ৩৩০ বস্তা সার জব্দ

7

৫০ প্রজাতির দেশি মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

8

মিশ্র ফল চাষে চালক মিজানের বাজিমাত

9

জলাবদ্ধতা দূর করতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

10

কাজীপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১৫

11

জয়পুরহাটে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

12

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

13

মানিকগঞ্জে মাটির উর্বরা শক্তি কমছে

14

বাঘের হামলায় স্বামীহারা ৩১ পরিবার পেল ছাগল

15

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

16

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

17

নড়াইলে বিল থেকে নির্বিচারে শামুক আহরণ

18

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

19

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

20