কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুমকিতে ময়লার ভাগাড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ 
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় নির্ধারিত ময়লা আর্বজনা ফেলার ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

দুমকি উপজেলার সড়কের পাশে, বাজারের অলিগলিতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, এমনকি খালেও গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। বাজার, সড়ক ও আবাসিক এলাকার আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট, কোথাও বাজারের পচনশীল বর্জ্য, আবার কোথাও পলিথিন, প্লাস্টিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফেলে দেওয়া সামগ্রীর স্তূপ। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন এসব আবর্জনা জমে একেকটি স্থান পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে। দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।

উপজেলার পীরতলা বাজারের পুরোনো থানা পুল-সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফেলা ময়লা-আবর্জনায় সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল ভাগাড়। পচনশীল বর্জ্যরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশ এলাকায়। দুমকী থানায় প্রবেশের সংযোগ সড়কের পাশেও জমেছে আবর্জনার স্তূপ।

দুমকি উপজেলার সবচেয়ে দুর্ভোগপূর্ণ স্থানগুলোর একটি দুমকী-বাউফল সড়ক সংলগ্ন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেট এলাকা। এখানে সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার স্তূপ। আশপাশের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিনিয়ত ফেলার কারণে জায়গাটি দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। এই পথে চলাচলকারী পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে।

বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে উপজেলা সদরের পীরতলা খালেও। লুথ্যারান হেলথকেয়ার হাসপাতাল এলাকা থেকে আঙ্গারিয়া পর্যন্ত খালের বিভিন্ন অংশে জমেছে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে পীরতলা বাজার ও আশপাশের হাটবাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে খালটির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়া খালটি এখন ময়লা-আবর্জনার চাপে আরও বিপর্যস্ত। এভাবে চলতে থাকলে একসময় খালটির অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তাদের।

এ ছাড়া সৃজনী বিদ্যানিকেতন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় বাজারের বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ময়লার স্তূপ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উচ্ছিষ্ট ও পচনশীল আবর্জনায় এলাকাটির পরিবেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধ সহ্য করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলা সদরে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন কিংবা নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থান। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়ি বা দোকানের আশপাশের খালি জায়গা, সড়কের পাশ কিংবা খালে ময়লা ফেলছেন।

পীরতলা বাজারের ব্যবসায়ী শাহীন মৃধার ভাষ্য, প্রতিনিয়ত খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। যাদের বাসা থেকে খাল কিছুটা দূরে তারা বাসার গলিতেই খোলা জায়গায় ময়লা ফেলছেন। একজনকে দেখে আরেকজন, এভাবে পুরো গলির বাসিন্দারা সেই স্থানকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করছেন। এখানকার প্রতিটি এলাকা দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে।

জসিম উদ্দিন নামে এক শিক্ষক বলেন, প্রতিটি বাসায় প্রতিদিন কিছু না কিছু ময়লা জমা হয়। অথচ এগুলো ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে রাতের আঁধারে অথবা কেউ কেউ দিনের বেলাতেই যত্রতত্র ময়লা ফেলেন। বিশেষ করে খালেই সবাই ময়লা ফেলছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, ময়লা শুধু দু-একজন না; এলাকার সবাই ফেলেন। কারণ এখানে ডাস্টবিন নেই। নিরুপায় হয়েই তারা যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশকে দূষিত করছেন।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে একটা ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করে দিয়েছিল, কিন্তু সেটি যথাযথ কাজে আসছে না। এই মেডিকেল বর্জ্যরে কারণেও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দুমকী যদি পৌরসভা হতো তাহলে হয়তো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হতো। যত্রতত্র এভাবে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্রমেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।’

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর জানান, এসব বর্জ্য মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বে বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিষ্কার করা হয়। স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন তৈরি বেশ ব্যয়বহুল। আগে এসব ময়লা-আবর্জনা অপসারণে সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মতিনের সবজি বিপ্লব

1

টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে হাঁসের রাজত্ব

2

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

3

বৃক্ষ মেলায় একটি বনসাই দেখতে ভিড়

4

যমুনার চরাঞ্চলে সবুজের সমারোহ

5

নেত্রকোনায় মাল্টা চাষে সফলতা

6

ডাবের শতকোটি টাকার বাণিজ্য

7

মাশরুম চাষে মানিকের মাসে আয় লাখ টাকা

8

কাফকো সার কারখানা আবার বন্ধ

9

পটুয়াখালীতে ৫৪ কেজির তবল মাছ ধরা পড়েছে

10

পেঁপে আর মাছ চাষে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা ঈশ্বরের

11

দিনাজপুরে ১০ হাজার তাল চারা রোপণ

12

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

13

খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে চাষীরা

14

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

15

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

16

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

17

দাম নেইঃ পানের বরজ ভাঙছেন চাষী

18

সারের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’- কৃষি সচিব

19

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

20