কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাত বছরেও চালু হয়নি পোনা বিক্রয় কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতাঃ 

যশোরে চাঁচড়ায় সাত বছরেও চালু হয়নি পোনা বিক্রয় কেন্দ্র। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় পোনা কেনা বেচা করছেন। অন্যদিকে ভুল পরিকল্পনায় ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত ১৯ কোটি টাকার ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। 

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ রেণু পোনা করে যশোর সদরের চাঁচড়ার ব্যবসায়ীরা। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, চাঁচড়া এলাকার হ্যাচারি ও নার্সারিতে প্রতি বছর প্রায় ৬৮ হাজার কেজি রেণু পোনা উৎপাদিত হয়। এখানকার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২০১৯ সালে ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি আধুনিক দ্বিতল ভবন, চৌবাচ্চা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ভুল পরিকল্পনায় এটি নির্মিত হওয়ায় কেন্দ্রটি ব্যবসায়ীদের কোন কাজেই আসছে না। যার কারনে শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে বর্তমানে এই কেন্দ্রে মাত্র ৪-৫ জন বসছেন। বাকীরা আগের সেই মাহসড়কের পাশে খোলা জায়গাতেই বসছেন। 

ব্যবসায়ীদের মতে, নির্মিত কেন্দ্রটিতে পানি সরবরাহে মারাত্মক জটিলতা রয়েছে। আয়রনযুক্ত পানির কারণে রেণু পোনা বেশিক্ষণ তাজা রাখা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া মাটির প্রাকৃতিক ছোঁয়া ছাড়া রেণু পোনা বাঁচানো কঠিন হওয়ায় তারা নতুন এই কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

হ্যাচারি মালিক ও ব্যবসায়ী বাবুল আক্তার বলেন, রেণু পোনা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে মাছ রাখার চৌবাচ্চাগুলো অপ্রতুল। সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি সরবরাহ। মাটির স্পর্শ ও পর্যাপ্ত ভালো পানির প্রবাহ না থাকলে রেণু পোনা দ্রুত মারা যায়। এই ভবনের চৌবাচ্চায় পোনা বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।

আলতাফ হোসেন নামে এক পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ভবন পাওয়ার পর আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর দেখলাম গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বড় ট্রাক বা পিকআপ দাঁড় করানোর মতো জায়গা না থাকলে আমরা মালামাল লোড-আনলোড করব কীভাবে?

নার্সারি পোনা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে এত বড় ভবন বানিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। আমাদের মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না করে কেনাবেচার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ভোরে বেনাপোল প্রধান সড়কের ওপর আমরা হাট বসাচ্ছি।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, কেন্দ্রটিতে বর্তমানে পানি সংকট ও আয়রনের সমস্যা রয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক মৎস্য চাষি সরাসরি পুকুরপাড়ে বা খোলা জায়গায় কেনাবেচায় অভ্যস্ত হওয়ায় কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল করা যাচ্ছে না।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভেড়া পালনে আশিকের সাফল্য

1

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

2

সাত অবৈধ বাঁধ অপসারণ

3

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে স

4

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

5

চিংড়ি রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে

6

মিয়ানমারে পাচারের সময় সার ও সিমেন্ট সহ আটক ৬

7

‘দেশীয় বালাইনাশক শিল্পে টিকে থাকতে কাঁচামালে ৫৮ শতাংশ শুল্ক

8

নরসিংদীতে ৬৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট রিং জাল জব্দ

9

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

10

পুকুরে মাছ চাষাবাদের গ্রাম

11

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

12

চলনবিলের বির্স্তীর্ণ জলাভূমি কচুরিপানার দখলে

13

সাতক্ষীরায় জিরার দাম কমেছে

14

কৃষকের সবজিগাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

15

মেঘনার স্রোতে ধসে যাচ্ছে ইলিশা ঘাট

16

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

17

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডে প্রণোদনা পাচ্ছেন ১১০৩৬৪ কৃষক- কৃষি

18

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

19

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

20