কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আখ চাষে ঝুঁকছেন ফটিকছড়ির কৃষকেরা

চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ 
কম খরচে বেশি লাভের আশায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদীর চরে আখ চাষাবাদে ঝুঁকছে চাষীরা। এখানকার মাঠে মাঠে আখ চাষাবাদ হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ। ইতোমধ্যে আখ বিক্রি করে ভাল টাকা লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফটিকছড়িতে ১৩৫ জন কৃষক ১০৪ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ করেছেন। এবার রংবিলাস, ফিলিপাইন ও ২০৮ জাতের আখ চাষ হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় উপজেলার কৃষিতে বিকল্প ফসল হিসেবে আখের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার কুম্ভারপাড়া, সুন্দরপুর ইউনিয়নের আজিমপুর, পূর্ব সুয়াবিল, কাঞ্চননগর, পাইন্দংয়ের ফকিরাচান এবং হারুয়ালছড়ির পিনপিনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আখের আবাদ হয়েছে।

পূর্ব সুয়াবিল এলাকার কৃষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, সীমিত সামর্থ্যরে পরিবারে কৃষিকাজই তার আয়ের অন্যতম ভরসা। আগে ভান্ডারী মুলার সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টিকুমড়া চাষ করতেন। এবার নতুন কিছু করার প্রত্যাশায় বেছে নেন আখ চাষ। চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় কানি জমিতে ‘রংবিলাস’ জাতের আখ আবাদ করে পেয়েছেন আশাব্যঞ্জক সাফল্য। আখের বাগান তৈরি থেকে বিক্রি পর্যন্ত বাঁশ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। জমিতে আখ থাকা অবস্থাতেই পাইকারের কাছে পুরো উৎপাদিত আখ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। এতে খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।

হালদা নদীর চরে আলমগীরের মতো আরও প্রায় ২০ জন কৃষক আখ চাষ করেছেন। তাদের অনেকেই আগে ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করতেন। কম খরচে ভালো আয়ের সম্ভাবনা এবং জমিতে থাকা অবস্থাতেই পাইকারের কাছে আখ বিক্রির সুযোগ তাদের এ চাষে আগ্রহী করে তুলছে।

বিভিন্ন এলাকার আখচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট অনেক কৃষক। প্রায় এক মাস আগে থেকে আখ বিক্রি শুরু হয়েছে, যা এখনো পুরোদমে চলছে। হালদা নদীর চরে কেউ আখ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন; অন্য শ্রমিকেরা কাটা আখ সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকেই চলছে বাজারজাত করার প্রস্তুতি।

কৃষকেরা জানান, পাইকারেরা এখন জমিতে এসেই আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ঝামেলা কিছুটা কমছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের আজিমপুর এলাকার কৃষক মো. আমিনুল হকও এবার ১০ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। স্বল্প পরিসরে আবাদ করেই লাভবান হয়েছেন তিনি। তাঁর মতো কৃষকেরা আখ চাষে সাফল্য পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এ ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত আখ নারায়ণহাট বাজারে এনে বিক্রি করছেন। সেখানে প্রতিটি আখ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে এসব আখের চাহিদাও বেশ ভালো।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মধ্যে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩৫ জন কৃষক ১০৪ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ করেছেন। কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি উন্নত জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আখের আবাদ আরও সম্প্রসারণে কাজ করবে কৃষি বিভাগ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মান সনদ ছাড়াই ফিড ব্যবসাঃ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

1

১০ হাজার চারাগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা

2

কৃষিপণ্য রপ্তানি করা সরকারের মূল টার্গেট: কৃষিমন্ত্রী

3

পাহাড়ে জুমের ধানকাটা শুরু

4

ইউজিসিতে নতুন তিন সদস্য

5

সাড়ে ৩ লাখ টন সার কিনছে সরকার

6

সাতক্ষীরায় বিলে জলাবদ্ধতায় বিপাকে কৃষকরা

7

ঝড়ে কৃষককের ৫৩ হেক্টর কলা ও পেঁপে বাগান বিধ্বস্ত

8

এলএনজি ও সার সরবরাহ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

9

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যা বলল নয়াদিল্লি

10

চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই: কৃষিমন্ত্রী

11

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

12

ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

13

তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা

14

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের চারা বিতরণ

15

ফসলে বরাদ্ধের সার মৎস্যচাষীর পুকুরে

16

মেঘনার স্রোতে ধসে যাচ্ছে ইলিশা ঘাট

17

প্যাকিং হাউজ ও কোল্ড স্টোরেজ দ্রুত নির্মাণ করা হবে : বাণিজ্য

18

ইলিশের আকাল খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

19

সবজির গ্রাম মীরের বাড়ি

20