কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষাবাদ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 
সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়ায় এবার আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতি ব্যবহারে রোগ বালাই কম সহ উৎপাদন বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণেরও বেশি। ফলে দ্রুত বাড়ছে এ চাষাবাদের পরিধি। 

সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খিরা চাষাবাদ হয় উল্লাপাড়া উপজেলায়। এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে কমবেশি প্রায় সব ইউনিয়নেই খিরা চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে কয়ড়া,বড়পাঙ্গাসী,মোহনপুর উনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়।

 এসব এলাকায় সাধারণত সনাতন পদ্ধতিতে খিরা চাষাবাদ হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে কৃষি বিভাগের সচেতনতায় কৃষকরা মালচিং আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এই প্রযুক্তির প্রসারে কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে খিরা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হেক্টর।

উপজেলার বর্ধনগাছা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন কৃষক পলিথিন মালচিং পদ্ধতিতে খিরার আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে জমিতে লাগানো খিরা বীজ থেকে চারা গজিয়ে তা দ্রুত বড় হচ্ছে। কৃষক আশরাফুল ইসলামের জমিতে প্রতিটি চারা গাছে এরই মধ্যে তিন থেকে চারটি করে পাতা বের হয়েছে।

এই কৃশক জানান,তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের খিরা আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১৫ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবারই প্রথম এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগের নিয়মিত উৎসাহে এলাকার আরও অনেকেই এবার এই পদ্ধতিতে খিরা চাষ করেছেন এবং সনাতন পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। অনেক মাঠেই এখন এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “মালচিং পদ্ধতি মূলত মাটির আর্দ্রতা অর্থাৎ রস ও সঠিক তাপমাত্রা ধরে রাখে, জমিতে আগাছা দমনে সরাসরি সহায়তা করে এবং মাটির গুণগত মান ও উর্বরতা বজায় রাখে। ফলে সব দিক থেকেই কৃষকেরা লাভবান হন।” তবে প্লাস্টিক দূষণ রোধে পলিথিন মালচিংয়ের বদলে পরিবেশবান্ধব 'বায়োডিগ্রেডেবল মালচিং' পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নিবিড় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে বাড়ছে জৈব সারের ব্যবহার

1

ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

2

কোকোপিট প্লাস্টিক ট্রেতে সবজি চাষ

3

ডিলারশিপ বহাল ও কমিশন দ্বিগুণ করার দাবি বিএফএ’র

4

চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংস

5

কাঠলিচু চাষে মনিরুজ্জামানের ব্যাপক সাফল্য

6

১৯৮ বস্তা সার জব্দ

7

কাঞ্চনপেয়ারা রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

8

বগুড়ায় আউশের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

9

জলবায়ু পরিবর্তনে মহেশখালীর মানচিত্র বদলে যাচ্ছে

10

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

11

যশোরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ

12

বিভেদের জেরে ব্রি’র মহাপরিচালকের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব

13

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

14

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে নতুন ডিজি আব্দুর রহিম

15

বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রী

16

বিষ দিয়ে পুকুরের ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

17

আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

18

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

19

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার ঘরে

20