কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাল খননে চাষের আওতায় ১ হাজার একর জমি

শেরপুর সংবাদদাতাঃ 
শেরপুরের নকলায় একটি খাল খননে দীর্ঘদিন পর ৫টি গ্রামের ১ হাজার একর জমি এবার চাষাবাদের আওতায় এসেছে। এতে উপকৃত হয়েছেন অন্তত পাঁচ হাজার কৃষক। পাশাপাশি ফসলী মাঠের জলাবদ্ধতার দুর হয়েছে। 

জানা যায়,“ বুরুডুবি কামরুলের বাড়ির সামনে থেকে গোদাডাঙ্গা হয়ে ব্রহ্মপুত্র” নদ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪৮৮ কিলোমিটার খালটি খনন না হওয়ায় উপজেলার পাঁঠাকাটা, নামাকৈয়াকুড়ি, দুধেরচর, বালিগঞ্জ, গোদাডাঙ্গা, বুরুড়ুবি এলাকার বিশাল ফসলী মাঠে জলাবদ্ধতায় সব ফসল চাষাবাদ করা যেত না। এতে এসব গ্রামের কৃষকরা প্রায় ১ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলেন।

চলতি বছর ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা ব্যায়ে এই খাল পুনর্খনন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ২১৬ জন শ্রমিক প্রায় এক মাস কাজ করেছেন। এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনর্খননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কাজ শেষে অব্যয়িত ৭৮ লাখ ২০ হাজার ৫৩২ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 
স্থানীয়রা জানান, খাল খননের আগে ওই অঞ্চলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। আগে শুধু বোরো চাষ করা গেলেও খাল খননের ফলে তাঁরা নতুন করে আমন চাষের কাজ শুরু করেছেন। 

স্থানীয় চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন, আগে আমরা কোনো দিন আমন চাষ করতে পারতাম না। বোরোও তেমন একটা ঘরে তুলতে পারতাম না। খালটা খনন করায় আমাদের খুবই উপকার হয়েছে। এখন আমরা আমন চাষ করতে পারছি।  

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খালটি খনন করা হয়েছে। সব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা ৭৮ লাখ টাকার ওপরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছি। এই খালটি খননের ফলে স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খালটির পুনর্খনন শেষ হওয়ায় স্থানীয় মানুষ ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণে পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য বাড়ছে। নৌকা চলাচলের পাশাপাশি দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষায় পানি দ্রুত নদীতে নামায় জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতি কমবে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও কমবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চেক

1

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদ

2

৬৪ জেলায় ভেজাল খাদ্য পরীক্ষায় ল্যাব চালু হচ্ছে

3

বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

4

এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

5

পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট

6

১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

7

পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির অনুমোদন

8

চলনবিলের বির্স্তীর্ণ জলাভূমি কচুরিপানার দখলে

9

পোকা চাষে শিমুলের মাসে আয় ২ লাখ

10

কচুরিপানায় আটকা কৃষকের ভাগ্য

11

বিলুপ্তির পথে গরু-লাঙ্গলের চাষাবাদ

12

ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধ করলো প্রশাসন

13

শেরপুরে ১৫ সার ডিলার কারাগারে

14

কুড়িগ্রামের কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে ব্যস্ত

15

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই : পরিবেশমন্ত

16

মালচিং করলা চাষে ইমরানের সাফল্য

17

ভবদহে ডুবেছে মাছের ঘের

18

শতকোটি টাকার পানিফল বিক্রির সম্ভাবনা

19

পার্টনারসহ ডিএইর তিন প্রকল্পে নতুন পিডি

20