কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মতিনের সবজি বিপ্লব

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
মৌলভীবাজারে সবজি চাষাবাদে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে আব্দুল মতিন নামে এক উদ্যোক্তা। তিনি পতিত জমিতে নানা ধরনের সবজি ও ফল উৎপাদন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এ চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি নিজের ভাগ্যও চাকু ঘুরিয়েছেন। তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা জঙ্গিরাই গ্রামের বাসিন্দা। 

জানা যায়,২০২২ সালে মতিন তার বাড়ির পাশে ২০ শতক পতিত জমিতে চাষাবাদের আওতায় আনতে চিন্তা করেন। একই সাথে তার বাড়ির পাশে অন্যও ৬০ শতক পতিত জমিও লিজ নেন। এরপর সেখানে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে সেখানে শুরু করেন টমেটো,কাঁচা মরিচ,বেগুন,ধনেপাতা চাষাবাদ। প্রথম বছরেই খরচ বাদে এখান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাখ করেন তিনি। এরপর তার উৎসাহ বেড়ে যায়। পরের বছর আরো দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদে মনযোগ তিনি। ভাল ফল পেতে থাকেন তিনি। এখন তার জমিতে গাছে ঝুলছে টকটকে লাল টমেটো, মাচায় দোল খাচ্ছে লাউ, আর সতেজ শসাগাছের ফাঁকে উকি দিচ্ছে নজরকাড়া হলুদ তরমুজ। 

কয়েক বছর আগেও ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা যে ৮০ শতক জমি পড়ে ছিল অলসভাবে। এক ব্যবসায়ীর অদম্য চেষ্টায় আজ সেখানে ফলছে সোনালি সম্ভাবনা। পতিত জমিকে উর্বর শস্য খেতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মতিন । অন্য ব্যবসার পাশাপাশি বিষমুক্ত এ সবজি বাগান এখন তার জীবনের গতি বদলে দেওয়া নির্ভরযোগ্য বাড়ত আয়ের পথ।

বর্তমানে ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ হাসছে মতিনের খেতে। মতিনের ভাষ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করেন। শীতকালে চাষ করেন লাউ, টমেটো ও আলু।

বাজারদর ও সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আবদুল মতিন জানান, খেতের টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা এবং লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রির পর শীতের মুখ দেখার আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

সচেতন এই চাষী তার জমিতে ব্যবহার করছেন মাটির পুষ্টি রক্ষায় ‘মালচিং পেপার’, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ‘পলিশেড’ এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলনে ‘গ্রাফটিং’ (কলম) পদ্ধতি। রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে মূলত জৈব সার দিয়েই চাষ হচ্ছে সবজি। ফলে বাজারে তার বাগানের ফসলের চাহিদা অন্য যেকোনো খেতের চেয়ে অনেক বেশি।

উদ্যোক্তা আবদুল মতিন জানান, স্থানীয় কিছু পাইকার তার কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। আবার তার দোকানের সামনেও কিছু সবজি নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে অনেকে এক-দুই কেজি করে কিনে নেন। বাজারে নেওয়ার আগেই সবজি বিক্রি হয়ে যায়। ব্যবসার পাশাপাশি এটি তার বাড়তি আয়ের পথ হয়েছে। শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানও করেছেন মতিন। বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা লাগিয়েছেন। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন,ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করা যায়-মতিন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুরো এলাকার জন্যই তিনি এখন অনুপ্রেরণা। অনাবাদি জমিতে বুনে দেওয়া সেই ছোট স্বপ্নটি আজ পুরো উপজেলার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপ নিয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাঙ্গায় দূষণ দখলে সংকটে কুমার নদ

1

মূল্যস্ফিতি কিছুটা বেড়েছে

2

বন্যায় ক্ষত বিক্ষত কৃষি,মৎস্য,প্রাণী খাত

3

আমন ধানে সাতরা পোকার আক্রমণ

4

কাঠলিচু চাষে মনিরুজ্জামানের ব্যাপক সাফল্য

5

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

6

ব্রি’র অর্গানিক সার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে ইউরিয়ার ব্যবহার

7

চিকিৎসা নিয়ে বনে ফিরল হনুমানটি

8

তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে দেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ

9

পাবিপ্রবিতে পরিবেশ রক্ষার নতুন বার্তা

10

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

11

পুকুরে মাছ চাষাবাদের গ্রাম

12

তিন বছরে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, এবার কি গতি ফিরবে পার্টনারে?

13

দেশে বৈদাশিক মুদ্রার রিজাভ বাড়লো

14

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

15

জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ

16

বাগেরহাটে বাড়ছে চুইঝালের চাষ

17

জমজমাট সাপাহার আম বাজার

18

সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে

19

আলু চাষিদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

20