কুমিল্লা সংবাদদাতাঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আমন ধানের খেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় কীটনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
জানা গেছে, এ উপজেলায় ৫ হাজার ৪ ৮০ হেক্টর জি তে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫ হাজার ৫ ১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছে। শুরু থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় ধান গাছ বেশ সতেজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পোকার আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ধানের মাঠঘুরে দেখা যায়,আক্রান্ত খেতে কৃষকরা কিটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। অনেক চাষী ধান খেতে পোকা দমনে ডালপালা গেরে পাচিং পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। কিন্তু পোকা দমন হচ্ছে না। এ নিয়ে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সিদলাই ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া জানান,পোকার আক্রমণ থেকে ধান ক্ষেত বাঁচাতে আমরা জমিতে গাছের ডালপালা পুঁতে দিয়েছি, ডালের মধ্যে পলিথিনও বেঁধে দিয়েছি। কিন্তু এর পরও জমিতে পোকার আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। দিনে দিনে পোকা বেড়ে যাচ্ছে।
চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া এলাকার কৃষক মফিজ মিয়া বলেন, আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ক্ষেতে ধানের শীষ বের হবে। কিন্তু এই সময়ে মাজরা পোকাসহ অন্য পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমরা সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে কীটনাশক স্প্রে করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। তবে কাইচ থোড় আসার এই সময়ে কিছু কিছু এলাকায় মাজরা পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এটি রোধে আমরা চাষিদের সহনীয় মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক নিয়মে প্রাক-সাঁঝের (বিকেলের) পর স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি জমিতে পার্চিং (ডালপালা পোঁতা) পদ্ধতি চালু রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছি দ্রুতই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
কৃ/স/জয়